| বঙ্গাব্দ

. টেকনাফের পাহাড়ে নতুন আতঙ্ক, তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর; অব্যাহত যৌথবাহিনীর অভিযান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 06-11-2026 ইং
  • 29285 বার পঠিত
. টেকনাফের পাহাড়ে নতুন আতঙ্ক, তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর; অব্যাহত যৌথবাহিনীর অভিযান
ছবির ক্যাপশন: টেকনাফের পাহাড়ে তিন লাশ

টেকনাফের পাহাড়ে নতুন আতঙ্ক, তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর; অব্যাহত যৌথবাহিনীর অভিযান

কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথবাহিনীর অভিযানে এক সেনাসদস্য নিহত হওয়ার একদিন পর শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পাহাড়ের জঙ্গলে তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো লাশগুলো উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে সেখানে সত্যিই লাশ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পাহাড়ে তিনটি লাশ থাকার খবর

শুক্রবার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তবে দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের কারণে এখনো সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে পুলিশও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ে তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর তাঁরা শুনেছেন। তবে লাশ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পাহাড়ে তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু উদ্ধার না করা পর্যন্ত সেগুলো সত্যিই লাশ কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, মানবপাচার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।

আগের দিন অভিযানে নিহত হন সেনাসদস্য

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালীর দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানা লক্ষ্য করে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়।

এ সময় মানবপাচারকারীদের গুলিতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন।

একই অভিযানে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা ৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক

পাহাড়ে নতুন করে তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র অপরাধী ও মানবপাচারকারী চক্র বিভিন্ন আস্তানা গড়ে তুলেছে। এসব অপরাধীকে নির্মূল করতে বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের দাবি, পুরো পাহাড়ি এলাকায় সমন্বিত ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের আস্তানাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। অপরাধ করে কারও পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, মানবপাচারকারীদের গুলিতে দায়িত্ব পালনরত একজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁরা গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। এ ধরনের অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতাও প্রয়োজন।

এখনো নিশ্চিত নয় তিনটি লাশের খবর

সেনাসদস্য নিহত, ৫৬ জনকে উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটক করার পর টেকনাফের পাহাড়ে নতুন করে তিনটি লাশ থাকার খবর পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তবে সেগুলোর অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

এদিকে মানবপাচার ও সশস্ত্র অপরাধীদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
খবর স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর একবার এক তরুণের বাঁধভাঙা উল্লাস ও আনন্দ-চিৎকার আমাকে ভিন্ন এক ভাবনায় আক্রান্ত করেছিল। তরুণের সেই উল্লাস আমাকে নতুন এক সমাজ-জিজ্ঞাসার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। এটা কি জ্ঞান-পিপাসু হিসেবে উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও উম্মাহকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাওয়ার আনন্দ নাকি উন্নত জীবনের মোহনীয় হাতছানি এবং আজীবন সেখানে স্থায়ী হওয়ার দুয়ার খুলে যাওয়ার আনন্দ?  Advertisement  এদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত বিশ্বে পা রাখে এবং সেখানে ক্যারিয়ার গড়ে। উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি ভিসা দেয় স্টুডেন্ট ক্যাটাগরিতে। পর্যটন ভিসার তুলনায় স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। কোনো কোনো দেশের স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি!  শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা স্টুডেন্ট ভিসাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে বটে; তবে এর পেছনে একটি গভীর সমীকরণ রয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবার কারণে অনেক উন্নত দেশের জনসংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। কমতে থাকা জন্মের হার রীতিমতো জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রণোদনা দিয়েও তারা জন্মহার বাড়াতে পারছে না।  তাদের প্রয়োজন আমাদের মতো গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের। যারা ছাত্র ভিসায় বিদেশে গিয়ে সেখানকার দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে উঠবে। এজন্য তারা গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের ওয়েলকাম জানাতে মুখিয়ে থাকে। অফার করে নানা রকম সুযোগ-সুবিধার। অনেক দেশে পড়াশোনার পর পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্টের পথ খুলে দেওয়া হয়।  জ্ঞান-গবেষণার জন্য দূর দেশে পাড়ি জমানো খারাপ কোনো বিষয় নয়। কিন্তু দেশের আলো-হাওয়ায় বড় হয়ে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়াশোনার ভিত গড়ার পর নিছক একটু ভালো থাকার জন্য উন্নত ও অমুসলিম প্রধান দেশকে সার্ভ করা নিশ্চয়ই একজন মুসলিম তরুণের কাম্য বিষয় হতে পারে না। বাবা-মা যতদিন বেঁচে থাকেন, ততদিন দেশের সাথে এই শ্রেণির মানুষের নিভু নিভু সম্পর্কটা হারিকেনের সলতের মতো টিকে থাকে। বাবা-মার মৃত্যুর পর অনেকে দেশের সমুদয় সম্পদ বিক্রি করে সেই টাকা বৈদেশিক সুখে বিনিয়োগ করে। দেশে তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও আর অবশিষ্ট থাকে না।  শিক্ষার্থীদের মাঝে কেন দেশত্যাগের মিছিল চলছে? এর জন্য কি শুধুই তরুণদের ভোগবাদী মানসিকতা দায়ী? শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় তুলবার আগে সবার প্রথমে নিজেদের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও আমরা দুর্নীতিমুক্ত, অপরাধহীন, স্থিতিশীল, বাসযোগ্য ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাওয়ার মতো একটি দেশ গড়ে তুলতে পারিনি। যে দেশ নিয়ে একজন মেধাবী তরুণ স্বপ্নের বীজ বুনবে।  এখানে মেধার মূল্য নেই, ঘুস ও রেফারেন্স ছাড়া চাকরি হয় না, জীবন সর্বক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক অবক্ষয় ও অস্থিরতার ছড়াছড়ি, দুর্নীতিতে সয়লাব প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং তরুণদের নিয়ে সর্বদা আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারকে।  এতসব অনিশ্চয়তার মাঝে মেধাবী শিক্ষার্থীকে যেখানে ওয়েলকাম করতে উন্নত দেশগুলো অ্যাম্বাসি খুলে বসে আছে, তার জন্য দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখা কঠিন ব্যাপারই। এরপরও তারুণ্যকে আমি এই কঠিনেরে ভালোবাসার আহ্বান জানাই। কেউ দেশটাকে প্রস্তুত করে দেয়নি বলে আমি কি পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করব না? নিরুপদ্রব জীবনের জন্য সবাই যদি বিদেশকেই ঠিকানা বানায়, তবে চেইঞ্জ মেকার হবে কে?  প্রকৃতপক্ষে আমাদের তরুণদের সামনে কোনো ভিশন বা আদর্শ নেই, যার জন্য সে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে। অধিকাংশ পরিবার, এমনকি খোদ রাষ্ট্রও তরুণদের আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট নয়; বরং ধর্মবিযুক্তির মাধ্যমে তাদের নিছক ভোগবাদী এবং স্বার্থপর করে গড়ে তোলা হচ্ছে।  তাই, মেধাবী তরুণদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার মিছিল থামানোর জন্য মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেই সাথে প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেন আগামী প্রজন্ম আদর্শবাদী এবং শেকড়মুখী মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।  সর্বোপরি তরুণদের ভোগবাদী জীবনের পরিবর্তে চ্যালেঞ্জের জীবন বেছে নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, ভোগে নয়, ত্যাগের মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখের ঠিকানা। একটি দেশ উন্নত হয় মূলত তরুণদের মেধার ওপর ভর করে। সেই মেধা যদি বাইরে চলে যায় এবং বাইরের উন্নয়নে তা ব্যয় হয়, তবে সেই দেশ কোনোভাবেই সাফল্যের স্বর্ণচূড়ায় উঠতে পারে না। তাই মেধা পাচার রোধে আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।  সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক (মেটা) থেকে নেওয়া।

স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর একবার এক তরুণের বাঁধভাঙা উল্লাস ও আনন্দ-চিৎকার আমাকে ভিন্ন এক ভাবনায় আক্রান্ত করেছিল। তরুণের সেই উল্লাস আমাকে নতুন এক সমাজ-জিজ্ঞাসার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। এটা কি জ্ঞান-পিপাসু হিসেবে উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও উম্মাহকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাওয়ার আনন্দ নাকি উন্নত জীবনের মোহনীয় হাতছানি এবং আজীবন সেখানে স্থায়ী হওয়ার দুয়ার খুলে যাওয়ার আনন্দ? Advertisement এদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত বিশ্বে পা রাখে এবং সেখানে ক্যারিয়ার গড়ে। উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি ভিসা দেয় স্টুডেন্ট ক্যাটাগরিতে। পর্যটন ভিসার তুলনায় স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। কোনো কোনো দেশের স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি! শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা স্টুডেন্ট ভিসাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে বটে; তবে এর পেছনে একটি গভীর সমীকরণ রয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবার কারণে অনেক উন্নত দেশের জনসংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। কমতে থাকা জন্মের হার রীতিমতো জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রণোদনা দিয়েও তারা জন্মহার বাড়াতে পারছে না। তাদের প্রয়োজন আমাদের মতো গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের। যারা ছাত্র ভিসায় বিদেশে গিয়ে সেখানকার দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে উঠবে। এজন্য তারা গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের ওয়েলকাম জানাতে মুখিয়ে থাকে। অফার করে নানা রকম সুযোগ-সুবিধার। অনেক দেশে পড়াশোনার পর পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্টের পথ খুলে দেওয়া হয়। জ্ঞান-গবেষণার জন্য দূর দেশে পাড়ি জমানো খারাপ কোনো বিষয় নয়। কিন্তু দেশের আলো-হাওয়ায় বড় হয়ে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়াশোনার ভিত গড়ার পর নিছক একটু ভালো থাকার জন্য উন্নত ও অমুসলিম প্রধান দেশকে সার্ভ করা নিশ্চয়ই একজন মুসলিম তরুণের কাম্য বিষয় হতে পারে না। বাবা-মা যতদিন বেঁচে থাকেন, ততদিন দেশের সাথে এই শ্রেণির মানুষের নিভু নিভু সম্পর্কটা হারিকেনের সলতের মতো টিকে থাকে। বাবা-মার মৃত্যুর পর অনেকে দেশের সমুদয় সম্পদ বিক্রি করে সেই টাকা বৈদেশিক সুখে বিনিয়োগ করে। দেশে তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও আর অবশিষ্ট থাকে না। শিক্ষার্থীদের মাঝে কেন দেশত্যাগের মিছিল চলছে? এর জন্য কি শুধুই তরুণদের ভোগবাদী মানসিকতা দায়ী? শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় তুলবার আগে সবার প্রথমে নিজেদের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও আমরা দুর্নীতিমুক্ত, অপরাধহীন, স্থিতিশীল, বাসযোগ্য ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাওয়ার মতো একটি দেশ গড়ে তুলতে পারিনি। যে দেশ নিয়ে একজন মেধাবী তরুণ স্বপ্নের বীজ বুনবে। এখানে মেধার মূল্য নেই, ঘুস ও রেফারেন্স ছাড়া চাকরি হয় না, জীবন সর্বক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক অবক্ষয় ও অস্থিরতার ছড়াছড়ি, দুর্নীতিতে সয়লাব প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং তরুণদের নিয়ে সর্বদা আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারকে। এতসব অনিশ্চয়তার মাঝে মেধাবী শিক্ষার্থীকে যেখানে ওয়েলকাম করতে উন্নত দেশগুলো অ্যাম্বাসি খুলে বসে আছে, তার জন্য দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখা কঠিন ব্যাপারই। এরপরও তারুণ্যকে আমি এই কঠিনেরে ভালোবাসার আহ্বান জানাই। কেউ দেশটাকে প্রস্তুত করে দেয়নি বলে আমি কি পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করব না? নিরুপদ্রব জীবনের জন্য সবাই যদি বিদেশকেই ঠিকানা বানায়, তবে চেইঞ্জ মেকার হবে কে? প্রকৃতপক্ষে আমাদের তরুণদের সামনে কোনো ভিশন বা আদর্শ নেই, যার জন্য সে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে। অধিকাংশ পরিবার, এমনকি খোদ রাষ্ট্রও তরুণদের আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট নয়; বরং ধর্মবিযুক্তির মাধ্যমে তাদের নিছক ভোগবাদী এবং স্বার্থপর করে গড়ে তোলা হচ্ছে। তাই, মেধাবী তরুণদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার মিছিল থামানোর জন্য মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেই সাথে প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেন আগামী প্রজন্ম আদর্শবাদী এবং শেকড়মুখী মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। সর্বোপরি তরুণদের ভোগবাদী জীবনের পরিবর্তে চ্যালেঞ্জের জীবন বেছে নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, ভোগে নয়, ত্যাগের মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখের ঠিকানা। একটি দেশ উন্নত হয় মূলত তরুণদের মেধার ওপর ভর করে। সেই মেধা যদি বাইরে চলে যায় এবং বাইরের উন্নয়নে তা ব্যয় হয়, তবে সেই দেশ কোনোভাবেই সাফল্যের স্বর্ণচূড়ায় উঠতে পারে না। তাই মেধা পাচার রোধে আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক (মেটা) থেকে নেওয়া।

ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency