নিজস্ব প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্বজুড়ে পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় গত কয়েক দশকে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। এসব কারণে পরিস্থিতিকে কেউ কেউ ‘স্পার্মাগেডন’ বা পুরুষের প্রজনন সংকট হিসেবে বর্ণনা করছেন।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক হাগাই লেভিন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার বিষয়টিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে এখন থেকেই সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তবে সংকটের প্রকৃত মাত্রা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালান পেসি মনে করেন, শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তার গবেষণায় আধুনিক ও তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের পতনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে শুক্রাণুর গুণগত মানে কিছুটা অবনতি হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, তা হলো পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক চান্না জয়াসেনার মতে, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের হার বাড়ার সঙ্গে পুরুষের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত শরীরের চর্বি হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে এবং টেস্টোস্টেরনের মাত্রাতেও পরিবর্তন আনতে পারে।
এদিকে বায়ু ও পরিবেশদূষণ, মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও গবেষণা চলছে। তবে এসব কারণ সরাসরি পুরুষের প্রজনন সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে—এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই।
প্রজনন সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে শারীরিক পরীক্ষা, রোগের ইতিহাস এবং বীর্য বিশ্লেষণের মতো প্রচলিত চিকিৎসা পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রজনন সক্ষমতা বাড়ানোর নামে বিভিন্ন পরীক্ষা, সাপ্লিমেন্ট ও চিকিৎসা পদ্ধতির প্রচারও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টেস্টোস্টেরন জেল বা ইনজেকশন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বাইরে থেকে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলে শরীরের স্বাভাবিক হরমোন উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং এর ফলে শুক্রাণু উৎপাদনও কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পুরুষের প্রজনন সমস্যা মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তি নিয়েও গবেষণা চলছে। মাইক্রোফ্লুইডিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে সুস্থ শুক্রাণু বাছাই এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বিপুলসংখ্যক শুক্রাণুর মধ্য থেকে উপযুক্ত কোষ শনাক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন গবেষকরা।
এ ছাড়া পরীক্ষাগারে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু তৈরির প্রযুক্তি নিয়েও গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের বিষয় থাকলেও বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কা করার কারণ নেই। বরং স্থূলতা, ডায়াবেটিস, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হরমোন ব্যবহারের মতো বিষয় সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |