| বঙ্গাব্দ

বেলুচিস্তানে জিম্মি হওয়া যাত্রীবাহী ট্রেনে বেঁচে ফেরা যাত্রীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-03-2025 ইং
  • 5241529 বার পঠিত
বেলুচিস্তানে জিম্মি হওয়া যাত্রীবাহী ট্রেনে বেঁচে ফেরা যাত্রীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
ছবির ক্যাপশন: ট্রেনে বেঁচে ফেরা যাত্রীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

বেলুচিস্তানে যাত্রীবাহী ট্রেন জিম্মি: বেঁচে ফেরা যাত্রীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের বোলান জেলার কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন জিম্মি করে স্থানীয় বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় এই ঘটনার সূত্রপাত হয়, যখন প্রায় সাড়ে ৫০০ যাত্রী নিয়ে চলতে থাকা জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিদ্রোহীদের হাতে আটক হয়। তবে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অভিযানে ট্রেনের প্রায় সকল যাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

ঘটনার পর, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কাছে যাত্রীরা মুক্তি পাওয়ার পর তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, কীভাবে সন্ত্রাসী বিদ্রোহীদের হাত থেকে বাঁচতে তারা নিজেদের জীবনের জন্য লুকাতে চেয়েছিলেন, কীভাবে সন্তানদের সুরক্ষিত রাখতে চেষ্টা করেছেন, এবং মুক্তির পর তারা কী অভিজ্ঞতা পেয়েছেন—এসব বিষয় নিয়ে তারা বিস্তারিত কথা বলেছেন।

ভয়ংকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন বেঁচে ফেরা যাত্রীরা

বেঁচে ফেরা এক যাত্রী বিবিসি, এএফপি, নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, "সবার মুখে শুধু চিৎকার ছিল, আমরা মাটিতে শুয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছিলাম। চারদিকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিলো। কিছুক্ষণ পর, সন্ত্রাসীরা এসে আমাদের নামতে বলল। তারা বলেছিল, 'পেছনে তাকিও না, সোজা চলে যাও!' আমাদের কিছু করার ছিল না, তাদের আদেশ মেনে নামতে হয়।"

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালা জেলার বাসিন্দা নোমান আহমেদ, যিনি এ সময় ট্রেনে ছিলেন, তিনি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, "আমি ঈদের জন্য বাড়ি ফিরছিলাম। একসময় আমরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই, তখন সন্ত্রাসীদের গুলির আক্রমণ থেকে বাঁচতে আমরা ট্রেনের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিছু সময় পর, সন্ত্রাসীরা নারী এবং বয়স্কদের আলাদা করে নিয়ে যায় এবং তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন আহত যাত্রীকে ট্রেনের ভিতরেই গুলি করে হত্যা করে।"

লুকানোর চেষ্টা এবং ভয়াবহ পরিস্থিতি

এক আরেক যাত্রী, ইশাক নুর, বিবিসিকে বলেন, "গুলির পর গুলি চলছিল, আমরা নিজেদেরকে যতটুকু সম্ভব আড়াল করে বসেছিলাম। আমাদের মাথায় তখন কিছুই ছিল না, শুধু মনে হচ্ছিল, আর কিছুক্ষণ পরেই হয়তো শেষ হয়ে যাবে।"

মোহাম্মদ আশরাফ এবং তার স্ত্রী তাদের শিশুদের আড়াল করতে চেষ্টা করেছিলেন। আশরাফ জানান, "আমরা আমাদের সন্তানদের শরীর আড়াল করে বসেছিলাম, যেন কোনোভাবে গুলি তাদের দিকে চলে এলে প্রথমে বাবা-মায়ের গায়ে লাগে। ট্রেনের মধ্যে এক মুহূর্তে প্রচণ্ড ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। মনে হচ্ছিল, এই পৃথিবীতে শেষ দিন চলছে।"

একজন যাত্রী এএফপিকে জানান, সশস্ত্র বিদ্রোহীরা যাত্রীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে যাচ্ছিলো। তারা জানতে চাইছিল, কে বেলুচিস্তান প্রদেশের বাসিন্দা, আর কে বাইরে থেকে এসেছেন। এরপর, তারা যাত্রীদের সামনে সন্ত্রাসীভাবে কয়েকজন সেনাকে গুলি করে হত্যা করে।

বিদ্রোহীদের হাতে যাত্রীদের নির্যাতন এবং হামলা

মুক্তি পাওয়া যাত্রীরা জানান, জিম্মি হওয়ার পর তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। বিশেষ করে ট্রেনে থাকা সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মির সদস্যরা ব্রাশ ফায়ার চালায় এবং কয়েকজন সেনাকে হত্যা করে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি বন্দি যাত্রীদের কাছে নিজেদের দাবির জন্য জিম্মি করে রেখেছিল।

যাত্রীরা জানান, বিদ্রোহীরা একে অপরের সাথে আলোচনা করছিল, যেখানে তারা তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিলো। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে যাত্রীদের মুক্তি নিশ্চিত করে।

পাকিস্তান সরকারের প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তান সরকার এ হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে এবং হামলার মূল হোতাদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে এবং পাকিস্তান থেকে এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শূন্যে নামিয়ে আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্রোহীদের দ্রুত বিচার করা হবে এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করা হবে, যাতে এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

উল্লেখযোগ্য তথ্য

বেলুচিস্তানে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। এই অঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল এবং প্রায়ই এই অঞ্চলে সহিংস ঘটনা ঘটে।

জাফর এক্সপ্রেসের এই জিম্মি ঘটনাটি একদিনের মধ্যে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতার সাথে নিষ্পত্তি হলেও, পাকিস্তানের ইতিহাসে এটি একটি নতুন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের নিদর্শন হিসেবে রয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency