| বঙ্গাব্দ

উহানের ল্যাবে অর্থায়ন করেছিলেন ড. ফাউচি, প্রমাণ দিলেন তুলসি গ্যাবার্ড

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-06-2026 ইং
  • 11652 বার পঠিত
উহানের ল্যাবে অর্থায়ন করেছিলেন ড. ফাউচি, প্রমাণ দিলেন তুলসি গ্যাবার্ড
ছবির ক্যাপশন: ড. ফাউচি

কোভিডের ‘ল্যাব-লিক’ তত্ত্ব ধামাচাপা দিতে গোয়েন্দাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন ড. ফাউচি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের দায়িত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার শেষ মুহূর্তে এক চরম বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন তুলসি গ্যাবার্ড। বিশ্ব কাঁপানো কোভিড-১৯ মহামারির উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত চীনের উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির ল্যাবে ‘বিপজ্জনক গেইন-অব-ফাংশন’ (Gain-of-Function) গবেষণায় অর্থায়নের জন্য তিনি সরাসরি সাবেক মার্কিন প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফাউচিকে দায়ী করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই আন্তর্জাতিক খবরটি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।

করদাতাদের মিলিয়ন ডলারে ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণা

নিজের দপ্তরে শেষ কর্মদিবসে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে বেশ কিছু ‘অপ্রকাশিত’ ও অত্যন্ত সংবেদনশীল নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করেন তুলসি গ্যাবার্ড। তিনি অভিযোগ করেন, মহামারি শুরুর দিকে মার্কিন সরকারের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা ড. ফাউচি মার্কিন সাধারণ করদাতাদের কয়েক মিলিয়ন ডলার লবিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে ব্যয় করে উহানের ল্যাবে বাদুড়ের করোনাভাইরাস নিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও মরণঘাতী গবেষণা চালিয়েছিলেন।

গ্যাবার্ডের গোয়েন্দা দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ড. ফাউচি কেবল এই মরণঘাতী গবেষণায় অর্থায়নই করেননি, বরং পরবর্তীতে ভাইরাসটি যখন ‘ল্যাব-লিক’ বা গবেষণাগার থেকে দুর্ঘটনাবশত ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেই সত্য ধামাচাপা দিতে মার্কিন শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর নিজের প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়েছিলেন।

কংগ্রেসে মিথ্যা সাক্ষ্য ও স্বার্থান্বেষী বলয়

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ড. ফাউচি তৎকালীন সময়ে বিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকদের নিয়ে একটি ‘স্বার্থান্বেষী বলয়’ তৈরি করেছিলেন। এই বলয়ের মূল কাজই ছিল—করোনাভাইরাস মূলত কোনো প্রাকৃতিক উৎস (যেমন বন্যপ্রাণী বা সামুদ্রিক বাজার) থেকে মানুষের শরীরে এসেছে—এমন তত্ত্ব বিশ্বজুড়ে জোরালোভাবে প্রচার করা, যাতে করে ‘ল্যাব-লিক’ বা ল্যাবরেটরি থেকে ভাইরাস ছড়ানোর সত্য তত্ত্বটিকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও 'ষড়যন্ত্র তত্ত্ব' হিসেবে প্রমাণ করা যায়।

গ্যাবার্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুন মাসে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যে ড. ফাউচি সরাসরি মিথ্যা কথা বলেছেন। সেই সংসদীয় শুনানিতে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—তিনি মহামারির আগে বা পরে এফবিআই (FBI), সিআইএ (CIA) বা অন্য কোনো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে এই ভাইরাল গবেষণা বা উহানের ল্যাব নিয়ে কোনো গোপন আলোচনা করেছিলেন কিনা। জবাবে ফাউচি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছিলেন, ‘কোভিড নিয়ে এমন কিছু আমার জানা নেই।’ গ্যাবার্ডের দাবি, আজ তার উন্মোচন করা নতুন সরকারি নথিপত্রগুলো ফাউচির এই প্রকাশ্য মিথ্যার বিরুদ্ধে এক অকাট্য ও অমোঘ প্রমাণ।

‘ডিপ স্টেটের’ পুরোনো খেলা ও দমনপীড়ন

ব্যক্তিগত কারণে গত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে আকস্মিক পদত্যাগ করা তুলসি গ্যাবার্ড এই পুরো ঘটনাটিকে ‘ডিপ স্টেটের’ (রাষ্ট্রের ভেতরের অদৃশ্য ও অনির্বাচিত শক্তিশালী চক্র) একটি পুরোনো ও নোংরা খেলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "কোভিড মহামারি সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করেছে। বছরের পর বছর ধরে চলা রাষ্ট্রীয় মিথ্যাচার, গণমাধ্যম সেন্সরশিপ এবং তথ্য লুকানোর ঘটনার পর এখন সময় এসেছে সত্যের স্বচ্ছতা ও অপরাধীদের জবাবদিহিতার।"

গ্যাবার্ড আরও অভিযোগ করেন, ড. ফাউচি কেবল কংগ্রেসে বা জনগণের সামনে মিথ্যাই বলেননি, বরং মার্কিন স্বাস্থ্য ও গোয়েন্দা বিভাগে যারা তার এই ল্যাব-লিক ধামাচাপা দেওয়ার মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন, তাদের ওপর চালনো হয়েছিল চরম দমনপীড়ন। গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক ‘হুইসেলব্লোয়ার’ বা সত্য প্রকাশকারী কর্মকর্তার ভাষ্যমতে—ফাউচির এই একমুখী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলা অনেক দক্ষ বিশ্লেষক ও বিজ্ঞানীকে চাকরিচ্যুতি বা ক্যারিয়ারের বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এর ফলে মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তরে এমন এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে বৈজ্ঞানিক সত্যের চেয়ে ব্যক্তির প্রতি আনুগত্যকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতো।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস’ (NIAID)-এর প্রধান হিসেবে অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতৃত্ব দেওয়া ৮৫ বছর বয়সি ড. অ্যান্থনি ফাউচি বা তার আইনি সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এক নজরে তুলসি গ্যাবার্ডের বিস্ফোরক অভিযোগ (২০ জুন, ২০২৬)

প্রধান দিক ও সূচকগোয়েন্দা রিপোর্টের বিস্তারিত বিবরণ
অভিযোগকারীতুলসি গ্যাবার্ড (যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান)।
অভিযুক্ত ব্যক্তিড. অ্যান্থনি ফাউচি (সাবেক মার্কিন প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা)।
মূল কেলেঙ্কারিচীনের উহানের ল্যাবে ‘গেইন-অব-ফাংশন’ গবেষণায় মার্কিন করদাতাদের অর্থায়ন।
ধামাচাপার চেষ্টাল্যাব থেকে করোনা ছড়ানোর সত্য গোপন করতে CIA ও FBI-এর ওপর প্রভাব বিস্তার।
কংগ্রেসে অবস্থান২০২৪ সালের জুনে কংগ্রেসে দেওয়া ড. ফাউচির বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ প্রমাণকারী নথির দাবি।

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা ও ভূ-রাজনীতি বিষয়ক প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, উহানের ল্যাব কেলেঙ্কারি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সব ব্রেকিং খবরের তাত্ক্ষণিক আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency