প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
কুষ্টিয়া: সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত কুষ্টিয়া। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহ, বাউল সম্রাট লালনের আখড়া এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপে কুষ্টিয়া ছিল বাংলার চেতনার ধারক। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং দেশবরেণ্য আলেম মুফতি আমির হামজা এখন এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। বিরোধী দলে থেকেও কুষ্টিয়ার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই (১৯০০ পরবর্তী) কুষ্টিয়া অঞ্চলটি ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ১৯ শতকের গোড়ায় কুষ্টিয়া চিনিকল ও মোহিনী মিলসের মতো শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। পাকিস্তান আমলে এবং স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে সব সময় প্রাজ্ঞ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আধিপত্য ছিল।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে মুফতি আমির হামজার বিজয় একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি কেবল একটি আসনের পরিবর্তন নয়, বরং কুষ্টিয়ার ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের এক নতুন মেলবন্ধন। ১৯০০ সালের সেই ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক শিল্পনগরী হওয়ার পথে এখন প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নাগরিক অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক জটিলতা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মুফতি আমির হামজা তাঁর সংসদীয় অবস্থানের সীমাবদ্ধতা ও সাহসিকতার কথা তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমরা সরকার গঠন করে ক্ষমতায় থাকতে পারলে অ্যাকশনটা আরও বেশি নিতে পারতাম। যেহেতু বিরোধী দলে আছি, তাই অ্যাকশনটা ১০০ ভাগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কিছু রাজনৈতিক বন্ধু ভালো কাজে সহায়তার কথা বললেও বাস্তবে তাঁরা শক্ত অবস্থান নিলে অনেকেই বিপক্ষে চলে যান। তবে সকল বাধা উপেক্ষা করে কুষ্টিয়াবাসীর উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
কুষ্টিয়া পৌরসভার অন্যতম প্রধান সমস্যা ময়লা ব্যবস্থাপনা। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় ড্রেন ও রাস্তায় ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। মুফতি আমির হামজা এই সমস্যার দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, কুষ্টিয়াকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করাই তাঁর অগ্রাধিকার।
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসক আহমেদ মাহবুবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তাঁরাও কুষ্টিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিক সেবায় সংসদ সদস্যকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় কুষ্টিয়ার মানুষ সব সময় স্পষ্টভাষী ও নীতিবান নেতৃত্বের ওপর ভরসা রেখেছে। মুফতি আমির হামজার এই ‘অ্যাকশন’ নেওয়ার ইচ্ছা এবং বিরোধী দলে থাকার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা মূলত এক ধরণের ‘খোলামেলা রাজনীতি’র বহিঃপ্রকাশ। ২০২৬ সালের এই নতুন সংসদে তাঁর সরব উপস্থিতি কুষ্টিয়ার উন্নয়নকে কতটুকু গতিশীল করে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। ১৯ শতকের সংস্কৃতির সাথে ২০২৬ সালের এই নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় কুষ্টিয়াকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
সূত্র: যুগান্তর, মুফতি আমির হামজা মিডিয়া সেল, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ (২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |