বগুড়া ও ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রার্থিতা: পার্থের আসন ত্যাগ ও ২০২৫-এর নির্বাচনে নতুন সমীকরণ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কেবল দলের নেতৃত্বই দিচ্ছেন না, বরং সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়ে বড় চমক সৃষ্টি করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান তার পৈতৃক এলাকা বগুড়া-৬ আসনের পাশাপাশি ঢাকার অভিজাত এলাকা ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-বারিধারা) আসন থেকেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণ শুরু হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনুরোধে তিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘোষণার পর ঢাকা-১৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ তারেক রহমানকে সম্মান জানিয়ে আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। পার্থ এখন তার পৈতৃক আসন ভোলা-১ থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
জানা গেছে, পার্থকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি নিজ দলের প্রতীকেই নির্বাচন করবেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি ভোলা-১ আসনে তাদের প্রাথমিক প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীরের পরিবর্তে পার্থকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে এই আসন থেকেই পার্থ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও নির্বাচনের এই গতিধারা বুঝতে হলে আমাদের ১৯৫০-এর দশকে ফিরে তাকাতে হবে। ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে নির্বাচনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল শোষণের বিরুদ্ধে গণরায়। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে শেরে বাংলা, ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে যেমন রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি হয়েছিল, ২০২৫ সালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিতেও একই ধরনের নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতা দেখা যাচ্ছে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ২০২৫ সালের এই নির্বাচনে তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা ও প্রভাবকে বিশ্লেষকরা ১৯৫০-এর সেই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষারই পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ঢাকা-১৭ এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে তারেক রহমানের প্রার্থিতা এবং আন্দালিভ রহমান পার্থের আসন ছেড়ে দেওয়া জোট রাজনীতির ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।
দেশের ভেতর যখন বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো আসন ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ত, তখন ইনকিলাব মঞ্চ আট বিভাগীয় শহরে একযোগে সর্বাত্মক অবরোধ পালন করছে। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও ভারতীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে তাদের এই কঠোর অবস্থান রাজনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। এদিকে বিচার বিভাগে নতুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর শপথ গ্রহণ এবং গণঅধিকার পরিষদে রাশেদ খানের পদত্যাগের পর হাসান আল মামুনের দায়িত্ব গ্রহণ ২০২৫ সালের রাজনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সংকট কম নয়। মালয়েশিয়ায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের আটক হওয়া এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়ানোর খবর বাংলাদেশকে যেমন ব্যথিত করছে, তেমনি প্রতিবেশী মিয়ানমারে জান্তার অধীনে বিতর্কিত নির্বাচন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
১৯৫০-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৫-এর এই সন্ধিক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি নির্বাচনই ছিল সার্বভৌমত্ব রক্ষার একেকটি ধাপ। তারেক রহমানের দ্বৈত আসনে প্রার্থিতা এবং পার্থের ভোলা-১ এ ফেরার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দেয় যে, ২০২৫ সালের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের নয়, বরং একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লড়াই। ১৯৫০-এর সেই স্বপ্নই যেন আজ নতুন প্রজন্মের হাত ধরে ২০২৫-এ এসে পূর্ণতা পেতে চাইছে।
তথ্যসূত্র: ১. প্রথম আলো ও জাতীয় দৈনিকসমূহের প্রতিবেদন (২৭-২৮ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। ৩. বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস ও বিবর্তন (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |