চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরে বিদ্রোহ: টাকার বিনিময়ে মনোনয়নের অভিযোগে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ; তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান
প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির হাইকমান্ডের মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনে নাজমুল মোস্তফা আমিনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার মিঠাদিঘী এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারী বিএনপির নেতাকর্মীরা "অবৈধ নমিনেশন মানি না, মানব না" এবং "টাকার বিনিময়ে নমিনেশন, মানি না, মানব না"—এমন কঠোর স্লোগান দেন।
এই অবরোধের কারণে রাত ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ঠাকুরদিঘী থেকে কেরানিহাট পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে অবশ্য ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ হলো— চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জনগণের পছন্দের প্রার্থী মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানকে মনোনয়ন না দিয়ে তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অবিলম্বে মনোনয়ন পরিবর্তন করে মুজিবুর রহমানকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করুক।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) একই দাবিতে সাতকানিয়ার কেরানিহাট এলাকায়ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। অর্থাৎ, মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে এই অসন্তোষ স্থানীয় রাজনীতিতে গভীর বিভেদ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে (১৯৫০-২০২৫) প্রধান দলগুলোর অভ্যন্তরে মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক বা বিদ্রোহ নতুন ঘটনা নয়। বিশেষত ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ বা প্রভাবের বিনিময়ে ‘তৃণমূলের জনপ্রিয়তা’ উপেক্ষা করে প্রার্থী দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা: ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল, জনগণের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ দেখায়, ২০২৫ সালে এসেও প্রধান দলগুলোতে জনপ্রিয় ও জনসম্পৃক্ত নেতাদের বাদ দিয়ে আর্থিক বিবেচনায় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার প্রবণতা বিদ্যমান।
আন্দোলনের ফসল: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এমন সময়ে বিএনপির মতো একটি প্রধান দলের অভ্যন্তরে 'টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন' সংক্রান্ত স্লোগান গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থাকে দুর্বল করতে পারে।
এই বিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, বিএনপি নেতৃত্বকে শুধু বহিরাগত প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গেই নয়, বরং নিজেদের ঘরের ভেতরের বিভাজন ও তৃণমূলের অসন্তোষের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হচ্ছে। এই বিদ্রোহের দ্রুত সমাধান না হলে তা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সূত্র ও বিশ্লেষণ
সূত্র: ১. চট্টগ্রাম-১৫ আসনের স্থানীয় বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের বক্তব্য ও বিক্ষোভ (৬ ডিসেম্বর, ২০২৫)। ২. চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানজট সংক্রান্ত স্থানীয় প্রতিবেদন। ৩. স্থানীয় বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমানের সমর্থকদের দাবি।
বিশ্লেষণ প্রতিবেদন কারির নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিশ্লেষণ: চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সড়ক অবরোধ এবং "টাকার বিনিময়ে নমিনেশন মানি না" স্লোগান দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের দুর্বলতা প্রকাশ করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের (১৯৫০-২০২৫) প্রেক্ষাপটে, এই ধরনের বিদ্রোহ দলীয় শৃঙ্খলা এবং তৃণমূলের মতামতের গুরুত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যখন সব দলের কাছে স্বচ্ছতা প্রত্যাশিত, তখন এই অভিযোগ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং স্থানীয় জনপ্রিয় প্রার্থী মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |