প্রাইভেট কার চালকদের শ্রমিক স্বীকৃতির দাবি: জোনায়েদ সাকির কঠোর বার্তা”
রিপোর্ট লেখক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা প্রাইভেট কার চালক ইউনিয়নের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, প্রাইভেট কার চালকদের কাজকে সুনির্দিষ্ট পেশা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। তাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা, কর্মঘণ্টা, নিয়োগপত্র, বেতন কাঠামো ও সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, “প্রাইভেট কার চালানো একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি তারা শ্রম দেন, কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর তাদের পরিবারকে দেখার কেউ থাকে না। এটি শ্রমিকদের জন্য ভয়ানক অবিচার।”
সাকি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে লাখো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য। অথচ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হয়নি। তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট শিরোমণি শেখ হাসিনাকে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা অভ্যুত্থান করে দেশ থেকে বিদায় করেছে। ১৯৭১ সালের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার, আজকের অভ্যুত্থান সেই আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে জীবন্ত করেছে।”
সাকি বলেন, দেশের প্রায় ৯৫ ভাগ মানুষই খেটে খাওয়া শ্রমজীবী। কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, প্রবাসী শ্রমিকরা অর্থনীতি সচল রাখছেন। রেমিটেন্স পাঠিয়ে তারা জিডিপি বাড়াচ্ছেন, বাজেট বাড়াচ্ছেন, সমৃদ্ধি আনছেন। অথচ তাদের মৌলিক অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আজকের অভ্যুত্থানের পর শ্রম সংস্কার কমিশন হয়েছে। নতুন শ্রম আইন প্রণয়ন হবে। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই—যেখানে শ্রম থাকবে, সেখানে শ্রমিকের স্বীকৃতি থাকতে হবে। কেবল শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংজ্ঞা দিয়ে শ্রমিক অধিকার অস্বীকার করা যাবে না।”
বর্তমানে প্রাইভেট কার চালকদের কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। নেই কর্মঘণ্টার সীমা, নেই সাপ্তাহিক ছুটি বা নির্ধারিত বেতন। দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা পঙ্গুত্ব হলে পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়।
ঢাকা প্রাইভেট কার চালক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহীদ এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন—
তাসলিমা আখতার, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান ও ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি
বাচ্চু ভূইয়া, বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতির সভাপতি
বিলকিস নাসিমা রহমান, সংগঠনের বিশেষ উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী
১৯৫২: ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিক ও ছাত্রদের যৌথ সংগ্রামের সূচনা।
১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধে কৃষক-শ্রমিক-ছাত্রদের মিলিত ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
১৯৭২–১৯৭৫: স্বাধীনতার পর শ্রম আইন ও শ্রমিক নীতিমালা প্রণয়নের আলোচনা শুরু হলেও পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান: ছাত্র-শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ পতন।
২০১৩ শাহবাগ আন্দোলন: শ্রমজীবী ও তরুণ সমাজ আবারও ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামে।
২০২৪–২৫ সালের জুলাই অভ্যুত্থান: ছাত্র-শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা পদত্যাগে বাধ্য হন। এরপর শ্রম সংস্কার কমিশন গঠিত হয় এবং নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের ঘোষণা আসে।
এই প্রেক্ষাপটে জোনায়েদ সাকির বক্তব্য বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বাংলাদেশে শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস সবসময় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। প্রাইভেট কার চালকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি শুধু একটি পেশাগত দাবিই নয়—এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের অভ্যুত্থান পর্যন্ত শ্রমজীবী জনগণের অবিচ্ছিন্ন দাবিরই নতুন রূপ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—নতুন অন্তর্বর্তী সরকার এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো কতটা আন্তরিকভাবে এই শ্রমিক শ্রেণির স্বীকৃতি, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
ঢাকা প্রাইভেট কার চালক ইউনিয়নের এক বছর পূর্তি সমাবেশ প্রতিবেদন
“History of Bangladesh (1971–present)” —
“Aftermath of the July Revolution (Bangladesh)” —
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |