| বঙ্গাব্দ

সাকির হুঁশিয়ারি: নিজেদের বদলাতে না পারলে আর প্রাসঙ্গিক থাকবে না

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-08-2025 ইং
  • 4896476 বার পঠিত
সাকির হুঁশিয়ারি: নিজেদের বদলাতে না পারলে আর প্রাসঙ্গিক থাকবে না
ছবির ক্যাপশন: সাকির হুঁশিয়ারি

“নিজেদের বদলাতে না পারলে তারা প্রাসঙ্গিক থাকবে না”—জোনায়েদ সাকির হুঁশিয়ারি গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৮ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: জাতীয় প্রেস ক্লাব, আলোচনা সভা, মাঠ পর্যায়ের তথ্য ও রাজনীতি বিশ্লেষণ

“নতুন ব্যবস্থার জন্ম অনিবার্য”—সাকির ভবিষ্যদ্বাণী

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন—

“গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে যারা নিজেদের বদলাতে পারবে না, আগামী দিনে তারা আর প্রাসঙ্গিক থাকবে না।”

শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘দ্রুত বিচার সম্পন্ন, মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভাটির আয়োজন করে অগ্নিসেনা সোশ্যাল ফাউন্ডেশনআমাদের নতুন বাংলাদেশ

সাকি বলেন,

“বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্যবস্থা নিজেই একটি স্বৈরাচারী কাঠামো। যে–ই ক্ষমতায় যায়, তাকেই স্বৈরাচার বানিয়ে দেয়। তাই এই ব্যবস্থার পরিবর্তন এখন অনিবার্য।”

চব্বিশের অভ্যুত্থান: এক টার্নিং পয়েন্ট

তিনি উল্লেখ করেন, “২০২৪ সালের অভ্যুত্থান শুধু রাজনৈতিক দিক থেকে নয়, প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিও সামনে এনেছে।”
তার ভাষায়, “এই অভ্যুত্থান ছিল মানুষের ক্ষোভের ফলাফল, আর এখন দরকার মৌলিক পরিবর্তনের রূপরেখা।”

নুরুল হক নুরের অভিযোগ: প্রশাসনে ‘রিসাইক্লিং’

আলোচনায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক বলেন—

“গণ–অভ্যুত্থানের পরও পুলিশ ও প্রশাসনের চরিত্র তেমন বদলায়নি। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা আবারো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছায়ায় প্রশাসনে পুনর্বাসিত হচ্ছেন।”

তার বক্তব্যে উঠে আসে, বাংলাদেশে ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও ব্যবস্থার সংস্কার হয়নি, বরং ক্ষমতার বৃত্ত ঘুরে একই অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলো ফিরে আসে।

অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য

সভায় সভাপতিত্ব করেন অগ্নিসেনা সোশ্যাল ফাউন্ডেশনের সভাপতি জহিরুল হক।
প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন
বক্তব্য রাখেন—

  • বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী

  • জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহসভাপতি গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী

  • জাতীয় নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০–২০২৫ সময়সীমায় ব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টার ইতিহাস

সালঘটনাপ্রভাব
১৯৫৪যুক্তফ্রন্ট বিজয়, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ভেঙে দেয়গণরায়ের প্রতি অবজ্ঞার শুরু
১৯৭১রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা অর্জনসম্পূর্ণ রাষ্ট্র কাঠামোর বদল
১৯৯০গণ–অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পতন, কিন্তু স্থায়ী সংস্কার হয়নিকেবল সরকার বদল, কাঠামো বদলায়নি
২০০৭তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংস্কারের নামে সামরিক প্রশাসনস্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ
২০২৪ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানপ্রশাসনিক সংস্কারের চাপ বাড়ে, নতুন সংবিধান আলোচনায় আসে
বিশ্লেষণ

সাকি ও নুরের বক্তব্যে স্পষ্ট—গণ–অভ্যুত্থান একটি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করলেও সেই পরিবর্তন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে নানা বাধা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “শুধু সরকার নয়, পুরো প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর সংস্কার ছাড়া এই প্রেক্ষাপট বদলাবে না।”
গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী সরকার যদি কেবল ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে, কিন্তু সিস্টেম সংস্কারে ব্যর্থ হয়, তাহলে গণ–আকাঙ্ক্ষার সাথে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।


সূত্র

  1. জাতীয় প্রেস ক্লাব আলোচনা সভা, ৮ আগস্ট ২০২৫

  2. গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদের বিবৃতি

  3. রাজনৈতিক ইতিহাস আর্কাইভ (১৯৫০–২০২৫)

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency