| বঙ্গাব্দ

শ্রমিক আন্দোলনে বন্ধ ৫২৯ কারখানা, কর্মস্থল ছেড়েছেন লাখো শ্রমিক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-11-2026 ইং
  • 33613 বার পঠিত
শ্রমিক আন্দোলনে বন্ধ ৫২৯ কারখানা, কর্মস্থল ছেড়েছেন লাখো শ্রমিক
ছবির ক্যাপশন: কর্মস্থল ছেড়েছেন লাখো শ্রমিক

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের তীব্র আন্দোলন: বন্ধ ৫২৯ কারখানা, কাজ ফেলে রাজপথে লাখো শ্রমিক

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও কারখানায় নিয়োগ বৈষম্যের প্রতিবাদে ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের মুখে রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের মোট ৫২৯টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে কাজ বন্ধ রেখে কর্মস্থল ছেড়ে রাজপথে নেমে এসেছেন বিভিন্ন কারখানার কয়েক লাখ পোশাকশ্রমিক।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে তৈরি পোশাক খাতের এই নজিরবিহীন শ্রম অসন্তোষ ও কারখানা বন্ধের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজিএমইএর দেওয়া আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রধান পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে বর্তমানে মোট কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ হাজার ৮১৬টি কারখানা চালু রাখতে সক্ষম হলেও তীব্র শ্রম অসন্তোষের কারণে সরাসরি বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে ৩১৮টি কারখানা।

অঞ্চলভিত্তিক কারখানা বন্ধ ও শ্রমিকদের কাজ বর্জনের চিত্র বিজিএমইএ ও শিল্প পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এলাকাভিত্তিক অসন্তোষের চিত্র অত্যন্ত নাজুক—

  • ঢাকা মহানগর (ডিএমপি এলাকা): রাজধানী ঢাকার ৩২০টি পোশাক কারখানার মধ্যে শুধু মিরপুর এলাকাতেই বন্ধ রাখা হয়েছে ৬৮টি কারখানা। এসব কারখানা থেকে কাজ বর্জন করে রাস্তায় নেমে এসেছেন ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক।

  • গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল: এই দুই শিল্পাঞ্চলের সর্বমোট ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে বকেয়া ও মজুরি আন্দোলনের মুখে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২২৫টি কারখানা। এসব কারখানার কাজ বন্ধ করে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক।

  • সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী অঞ্চল: শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৪৪১টি কারখানার মধ্যে বন্ধ রয়েছে ২৫টি কারখানা। এখানে কাজ বর্জন করে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক।

শ্রমিকদের মূল দাবি ও অসন্তোষের কারণ রোববার সকাল থেকেই ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে ঢাকা, গাজীপুর, মিরপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিক্ষোভ শুরু করেন হাজার হাজার পোশাকশ্রমিক। আন্দোলনের একপর্যায়ে তাঁরা ঢাকা-ময়মনসিংহ ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কসহ বিভিন্ন প্রধান সংযোগ সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল স্তব্ধ করে দেন।

আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের আন্দোলনরত শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় বর্তমান মেয়াদী বেতনে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পোশাক কারখানাগুলোতে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের মাত্রাতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকরা ক্রমাগত চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এসব মৌলিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের কারণেই বাধ্য হয়ে তাঁরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন।

যৌথ বাহিনীর টহল ও ছুটি ঘোষণা শিল্পাঞ্চলের উদ্ভূত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র‍্যাব, এপিবিএন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী মাঠে নেমেছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় অপ্রীতিহাসিক ঘটনা এড়াতে এবং শ্রমিক-মালিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও মহানগর এলাকার প্রায় ১০০টি কারখানায় রোববার এক দিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সচল করতে যৌথ বাহিনীর টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency