| বঙ্গাব্দ

‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠন নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুমুল মারামারি—এমপিদের কিল-ঘুষি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 31-10-2026 ইং
  • 88345 বার পঠিত
‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠন নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুমুল মারামারি—এমপিদের কিল-ঘুষি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি
ছবির ক্যাপশন: তুমুল মারামারি—এমপিদের কিল-ঘুষি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি

‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে হাতাহাতি ও মারামারি, প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

দেশের নারীদের যৌন অসন্তুষ্টি দূর করার উদ্দেশ্যে একটি অভিনব ও বিতর্কিত ‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ বা যৌনতা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আর্মেনিয়ার জাতীয় সংসদের ভেতরে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ, হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এই মারামারির ভিডিও এবং দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

চলতি বছরের শুরুতে বিরোধী দল ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া পার্টি’ নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা সরকার গঠন করতে পারলে দেশে “কোনো অসন্তুষ্ট নারী থাকবে না”। আর এই লক্ষ্য অর্জনের পক্ষেই সম্প্রতি দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বিরোধী দলটির আজব যুক্তি ছিল যে, মূলত যৌন অসন্তুষ্টির কারণেই মধ্যবয়সী নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা ও অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্যই এই ধরনের একটি বিশেষ মন্ত্রণালয় গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব নিয়ে আয়োজিত বিতর্কের একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। বিতর্কের সময় ক্ষমতাসীন ‘সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টি’র সংসদ সদস্য তারন চাখোয়ান বিরোধী দলকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন যে দলটি পুরোপুরি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত ওই উদ্ভট মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে বিরোধী দলের নেতা নারেক কারাপেতিয়ানকে নারীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

পার্লামেন্টে যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত চাখোয়ান বিরোধী নেতা কারাপেতিয়ানকে ‘আপাদমস্তক ঝামেলা’ বলে কটাক্ষ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধী দলের ক্ষুব্ধ সংসদ সদস্যরা নিজেদের আসন ছেড়ে চাখোয়ানের বক্তব্য দেওয়ার ডায়াসের দিকে তেড়ে যান। এরপরই শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে নজিরবিহীন হাতাহাতি।

সংঘর্ষের উত্তাল মুহূর্তে সংসদ সদস্যদের একে অপরকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে দেখা যায়। এমনকি পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার ও ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ভাহাগন আলেকসানিয়ান বিরোধী এক আইনপ্রণেতার দিকে তেড়ে গিয়ে একটি আস্ত চেয়ার ছুড়ে মারেন। অন্যদিকে, চাখোয়ানকে বিরোধী সংসদ সদস্য গার্নিক দাভতিয়ানের দিকে পানির বোতল থেকে জল ছিটাতে দেখা যায়। এ সময় বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা একে অপরের দিকে পানির বোতল ছুড়তে শুরু করলে পার্লামেন্টের কয়েকটি টেবিল ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার অধিবেশন মুলতবি না করার ঘোষণা দিয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, দেশবাসীর উচিত ঘটনাটি সরাসরি দেখা। তবে সংঘর্ষের মাত্রা চরম আকার ধারণ করলে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে অধিবেশনে বিরতি ঘোষণা করতে হয়। কিন্তু বিরতির পরেও মারামারি থামেনি; পার্লামেন্টের মূল চেম্বারের বাইরে করিডোরেও দুই পক্ষের সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তি চলতে থাকে। পরবর্তীতে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত এসে দুই দলের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে মানবপ্রাচীর তৈরি করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। সংঘর্ষ শেষে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আঘাতপ্রাপ্ত ও ছেঁড়া পোশাকে চেম্বার থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রতিক্রিয়া এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান পার্লামেন্টের অভ্যন্তরে সংঘটিত এই সহিংসতার নিন্দা জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের ভূমিকার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। পাশিনিয়ান বলেন, “আমি সব ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানাই, তবে আজ সিভিল কন্ট্রাক্ট উপদল যে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে আমি তাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি; কারণ বিরোধী দলে থাকার অর্থ এই নয় যে কেউ সংসদ কক্ষে দাঁড়িয়ে উদ্ধত আচরণ করবে। চেয়ার ছুড়ে মারা হোক বা অন্যকিছু, তাদের এই পদক্ষেপ ছিল যথাযথ ও সঠিক।”

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি কৌতুকপূর্ণ পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ নামের এই দলটির সংসদ সদস্যরা শারীরিকভাবে ততটা শক্তিশালী নন!”

ওই ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য চাখোয়ান লেখেন, “আমার কিছুটা খারাপ লাগছে। তারা [স্ট্রং আর্মেনিয়া] নিজেরাই লড়াই শুরু করে আর তারপর পালিয়ে বেড়ায়।” চাখোয়ান পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের এই আচরণকে সম্পূর্ণ ‘গুণ্ডামি’ হিসেবে অভিহিত করে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংঘাত উসকে দিয়ে প্রতিপক্ষের মার না খেয়ে পালিয়ে যাওয়া চলবে না।”

অন্যদিকে, বিরোধী দলের নেতা কারাপেতিয়ান সংঘর্ষের পূর্ণ পক্ষে অবস্থান নিয়ে পুরো ঘটনাটিকে ‘খাঁটি আর্মেনীয় ধাঁচের পুরুষে পুরুষে স্বাভাবিক লড়াই’ বলে অদ্ভুত মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের নানাভাবে বিরক্ত করে আসা ব্যক্তিরা এবার সরাসরি কড়া জবাব হাতেনাতে পেয়ে গেছেন।

এদিকে আর্মেনিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, পার্লামেন্টের অভ্যন্তরে এই মারামারির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

আলবেনিয়ার পার্লামেন্টেও বিক্ষোভ ও স্মোক বোমা বিস্ফোরণ এদিকে কাকতালীয়ভাবে একই দিনে আলবেনিয়ার পার্লামেন্টেও বিরোধী আইনপ্রণেতাদের তুমুল বিক্ষোভ, হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে স্মোক বোমা বা ধোঁয়া বোমা বিস্ফোরণ ঘটান এবং স্পিকারের ডায়াস অবরুদ্ধ করে রাখেন। একটি বিতর্কিত রিসোর্ট প্রকল্প ও সেন্ট্রাল ব্যাংক অব আলবেনিয়া সংক্রান্ত একটি আইনের সংশোধনী নিয়ে ভোটাভুটির সময় ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ করেন বিরোধী সদস্যরা। এ সময় তারা সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগ দাবি করেন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency