| বঙ্গাব্দ

চুমু ও অন্তরঙ্গ দৃশ্যে আপত্তির ‘বদনাম’ নিয়ে যা বললেন সিঙ্গাপুরের অভিনেত্রী

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 18-10-2026 ইং
  • 574188 বার পঠিত
চুমু ও অন্তরঙ্গ দৃশ্যে আপত্তির ‘বদনাম’ নিয়ে যা বললেন সিঙ্গাপুরের অভিনেত্রী
ছবির ক্যাপশন: চুমু ও অন্তরঙ্গ দৃশ্যে আপত্তির ‘বদনাম

পর্দায় রোমান্স ও অন্তরঙ্গ দৃশ্য বর্জন: সিঙ্গাপুরের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুই এন-এর আপসহীন লড়াইয়ের গল্প

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

চলচ্চিত্র ও নাটকের পর্দায় রোমান্স, চুম্বনের দৃশ্য কিংবা অন্তরঙ্গ মুহূর্ত বর্তমান বিনোদন দুনিয়ায় অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এই ধরনের দৃশ্য এবং ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল ও যন্ত্রণাদায়ক দৃশ্যে অভিনয় না করার ব্যাপারে কঠোর ও অনড় অবস্থানে রয়েছেন সিঙ্গাপুরের জনপ্রিয় তারকা রুই এন (Rui En)। ব্যক্তিগত সীমানা এবং পেশাগত স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে গিয়ে দীর্ঘ দুই দশকের অভিনয় জীবনে তাঁকে নানামুখী চড়াই-উতরাই এবং তীব্র নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছে।

সম্প্রতি ইউটিউবার এইকেন চিয়ার জনপ্রিয় টকশো ‘হার্ট টু হার্ট’-এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নিজের বর্ণিল ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত নীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

চুমু ও ধর্ষণের দৃশ্য বর্জনে অনড় অবস্থান

শোতে রুই এন জানান, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই রোমান্টিক বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে তার প্রবল অস্বস্তি কাজ করত। বিশেষ করে পর্দায় ধর্ষণের দৃশ্যের চিত্রের প্রতি তাঁর তীব্র আপত্তি রয়েছে। তাই কোনো চিত্রনাট্যে এমন দৃশ্য থাকলে তিনি শুরুতেই পরিচালক ও প্রযোজকদের কাছে তা বাদ দেওয়ার অথবা দৃশ্যটি অন্য কোনো বিকল্প উপায়ে চিত্রায়িত করার জোরালো অনুরোধ জানাতেন।

তবে নিজের এই নীতি ও শর্তে অনড় থাকার কারণে বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁকে নিয়ে নানা কুৎসা ও নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন:

“ইন্ডাস্ট্রির অনেক সিনিয়র অভিনেতাও এমন শর্ত দিয়েছেন, কিন্তু শুধু নারী হওয়ার কারণেই আমাকে ‘কঠিন’, ‘অতিরিক্ত চাহিদাসম্পন্ন’ এবং ‘ডিভা’র মতো বিশেষণে ভূষিত করা হয়েছে। অথচ একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত সীমানা নিয়ে কথা বলাটা কখনোই অপরাধ হতে পারে না।”

পর্দায় নারীদের ট্রমা প্রদর্শনের প্রচলিত ধারা নিয়ে প্রশ্ন

শুধু নিজের অস্বস্তির জায়গাতেই থেমে থাকেননি রুই এন, বরং বর্তমান মিডিয়া জগতের প্রচলিত ধারা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, কেন বারবার একজন নারীর সহনশীলতা, শক্তি কিংবা সমবেদনা অর্জনের জন্য পর্দার আড়ালে তাঁর মানসিক যন্ত্রণা ও ট্রমাকে ফুটিয়ে তুলতে হবে? বাস্তবের এই গভীর ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতাগুলোকে কেবল বিনোদনের খোরাক বা টিআরপি বাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেই তিনি মনে করেন।

হুমকি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপসহীন পথচলা

মাত্র ১৮ বছর বয়সে মডেলিংয়ের মাধ্যমে বিনোদন দুনিয়ায় পা রাখা রুই এন পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরের টেলিভিশন নাটক ও সংগীতাঙ্গনে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। ২০১১ সালেই তিনি প্রথম প্রকাশ্যে নিজের এই নীতিগত অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছিলেন। সেই সময় এক সহশিল্পীর সঙ্গে দৃশ্যপট নিয়ে মতবিরোধের জেরে তাঁকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে—এই ধরনের কঠোর শর্তে চললে তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ার চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে!

তবে এত হুমকি ও বৈষম্যের পরও নিজের নীতি থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি তিনি। ২০২১ সালে ৪০ বছর বয়সে এসে নিজের দীর্ঘদিনের ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি ছেড়ে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করেন এই অভিনেত্রী।

বর্তমান কার্যক্রম ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা

বর্তমানে অভিনয় জগতের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা (Mental Health Awareness) নিয়ে কাজ করছেন রুই এন। তাঁর মতে, নিজের এই সংগ্রামের গল্প ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে যদি অন্য কোনো নারী সামান্যতম স্বস্তি বা সাহস পান, তবে সেটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency