| বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, সাক্ষ্য না দেওয়ায় আটকে বিচার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-10-2026 ইং
  • 1038802 বার পঠিত
চট্টগ্রামে ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, সাক্ষ্য না দেওয়ায় আটকে বিচার
ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশ পুলিশ

চট্টগ্রামে ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, সাক্ষ্য না দেওয়ায় আটকে বিচার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলায় পুলিশ সদস্যদের সাক্ষ্য দিতে না আসার কারণে দীর্ঘদিনের অনেক মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুলিশ সাক্ষীদের আদালতে হাজির নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে একাধিকবার ‘অতীব জরুরি’ চিঠি পাঠাচ্ছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জারি করা হচ্ছে সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে কর্মরত এবং দেশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি হওয়া প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এসব সাক্ষীর মধ্যে কনস্টেবল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

তাদের কেউ চট্টগ্রামে কর্মরত, আবার কেউ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, সিলেট, চাঁদপুর, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সিআইডি, পিবিআই, নৌ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও এসবির মতো বিশেষায়িত ইউনিটেও অনেকে কর্মরত রয়েছেন।

আদালতে হাজির করতে জরুরি চিঠি

গত ৩ অক্টোবর সিএমপির উপকমিশনার (সদর) দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে ১৮টি পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব চিঠিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নির্ধারিত তারিখে সকাল ৯টায় আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের আগে একাধিকবার সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সর্বশেষ জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তারা আদালতে হাজির হননি। তাদের অনুপস্থিতিকে মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্ধারিত তারিখে সাক্ষী হাজির না হলে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও পুলিশ ইউনিটগুলোকে জানানো হয়েছে।

২০২২ সালের মামলাও আটকে

শুধু সাধারণ মামলাই নয়, গুরুতর অপরাধের মামলাতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তৃতীয় আদালত ২০২২ সালে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় পুলিশ কমিশনারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বাদীসহ অন্যান্য সাক্ষীকে আদালতে হাজির করার জন্য একাধিকবার প্রসেস ইস্যু করা হলেও রাষ্ট্রপক্ষ তাদের হাজির করতে পারেনি। ফলে পুরোনো ওই মামলার বিচার শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

আগামী ১৮ নভেম্বর সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কমিশনার, সিএমপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বদলির কারণে তৈরি হচ্ছে জটিলতা

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিংবা ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য পরবর্তী সময়ে অন্য জেলা বা ইউনিটে বদলি হয়ে গেলে সাক্ষ্যগ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়।

অনেক সময় আদালতের সমন পুরোনো কর্মস্থলে পৌঁছায়। এরপর সেটি রিজার্ভ অফিস, সিএমপি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ইউনিট হয়ে নতুন কর্মস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। কখনো সমন যথাসময়ে সাক্ষীর কাছে পৌঁছায় না। আবার সমন পৌঁছালেও আদালতে হাজির হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি বা ছাড়পত্র পেতে জটিলতার অভিযোগ রয়েছে।

ফলে নির্ধারিত দিনে পুলিশ সাক্ষীদের আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না এবং মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে যায়।

নোয়াখালীতেও একই সমস্যা

পুলিশ সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নোয়াখালীতেও কড়াকড়ি করা হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে পাঠানো এক চিঠিতে ১২১ জন পুলিশ সাক্ষীকে নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিচারাধীন মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত থাকার পরও কিছু পুলিশ সদস্য আদালতে উপস্থিত হচ্ছেন না। এতে বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। অনুপস্থিতির যথাযথ কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আগেও শত শত পুলিশ সাক্ষীকে তাগাদা

সিএমপি সূত্র জানায়, পুলিশ সদস্যদের আদালতে হাজির করতে এর আগেও একাধিকবার দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারির একটি চিঠিতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা আদালতে বিচারাধীন মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ৩৩ জন পুলিশ সদস্যকে হাজির হতে বলা হয়।

এর আগে গত বছরের ১৯ নভেম্বরও একই ধরনের চিঠি দেওয়া হয়েছিল। গত কয়েক মাসে অন্তত ১০টি দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে তিন শতাধিক পুলিশ সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে বলে সিএমপি সূত্র জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুর রাজ্জাক বলেন, সমন যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়া, পুলিশ সদস্যের অবসর গ্রহণসহ বিভিন্ন কারণে সাক্ষীরা আদালতে অনুপস্থিত থাকতে পারেন। এতে মামলার জট বাড়ে।

সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, এসব পরোয়ানা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য হাজিরা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার অংশ। অনেক পুলিশ সদস্য দূরে বদলি, অসুস্থতা কিংবা সমন যথাসময়ে না পাওয়ার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেন না। কিছু সাক্ষী ইতোমধ্যে মারা গেছেন বলেও জানান তিনি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবির চৌধুরীর মতে, পুলিশ সাক্ষীদের অনুপস্থিতি বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। বদলি বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে তা সমাধান করে সাক্ষীদের আদালতে হাজির নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সূত্র: কালবেলা

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency