| বঙ্গাব্দ

কোনো হেয়ারকাট হবে না, সুদসহ টাকা পাবেন আমানতকারীরা: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-07-2026 ইং
  • 3929030 বার পঠিত
কোনো হেয়ারকাট হবে না, সুদসহ টাকা পাবেন আমানতকারীরা: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
ছবির ক্যাপশন: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

৫ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক ৯ ল ফার্ম নিয়োগ; সংসদে অর্থমন্ত্রী

সংসদীয় প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬

দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের জন্য এক বড় ও স্বস্তিদায়ক আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জাতীয় সংসদকে আশ্বস্ত করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা তাদের আমানতের সম্পূর্ণ অর্থ সুদসহ ফেরত পাবেন। একই সঙ্গে তিনি ‘হেয়ারকাট’ (আমানতের অর্থের একটি অংশ কেটে রাখা)-এর সব ধরনের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। তবে ব্যাংকগুলো ক্রমবর্ধমান লোকসানে থাকায় এই পুরো প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসন-৪ এর সদস্য রেহানা আক্তার রানুর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কোনো ‘হেয়ারকাট’ হবে না, নিশ্চয়তা অর্থমন্ত্রীর

আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন:

‘কোনো হেয়ারকাট হবে না। আমানতকারীরা তাদের টাকা ও সুদ— দুটিই ফেরত পাবেন। আমি এ বিষয়ে আপনাদের শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’

আমানতকারীদের কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক অবস্থার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সব অর্থ একবারে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটু ধৈর্য ধরুন। এসব ব্যাংকই লোকসানে চলছে এবং প্রতিদিন লোকসান বাড়ছে। একটি ব্যাংক যখন আমানতের মূল টাকাই ফেরত দিতে পারে না, তখন সেই ব্যাংকের জন্য সুদ পরিশোধ করা কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়।’ তবে নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব এবং আমানতকারীরা ধাপে ধাপে তাদের মূল অর্থ ও সুদ উভয়ই পাবেন বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ব্যাংকিং সংকটে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র

ব্যাংকিং খাতের এই সাময়িক সংকটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা অকপটে স্বীকার করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমি জানি মানুষের অপেক্ষা করার সময় নেই। কেউ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন, কেউ মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না। প্রতিদিনই আমি নিজে এসব চরম আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের মুখোমুখি হচ্ছি।’ তবে এই সংকট নিরসনে সরকার মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আমানতকারীদের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে বলে তিনি অভয় দেন।

৫ ব্যাংক মিলে গঠিত হলো ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’

অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার নতুন ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে, যার মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও বহুমাত্রিক ব্যাংক পুনর্গঠন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

এই নতুন আইনের আওতায় আর্থিকভাবে চরম দুর্বল হয়ে পড়া দেশের শীর্ষ ৫টি ব্যাংককে একীভূত (Merge) করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো:

  • এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ (এক্সিম ব্যাংক) পিএলসি

  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি

  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি

  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি

  • ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি

এই ৫টি ব্যাংককে একীভূত করে নতুনভাবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এটিকে দেশের ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, নবগঠিত ব্যাংকে একীভূত হওয়া ৫টি ব্যাংকের সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রেজ্যুলেশনের আওতাভুক্ত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধাপে ধাপে টাকা ফেরত পাচ্ছেন।

আমানত সুরক্ষা সীমা বৃদ্ধি ও দোষীদের সম্পদ নিলামের প্রস্তুতি

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে আমানতকারীদের আইনি সুরক্ষা আরও জোরদার করা হয়েছে। এর অধীনে সর্বোচ্চ বীমাকৃত আমানতের সীমা পূর্বের ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া আগে আমানত সুরক্ষার আওতার বাইরে থাকা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদেরও এই নতুন আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই ৫টি ব্যাংকে ঋণ অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক নিরীক্ষা (Forensic Audit) চলছে। ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬-এর ৫৭ ধারার আওতায় ব্যাংকিং অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত আয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও অধিকার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে। এই আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেগুলো বিক্রি বা নিলামের মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ উদ্ধার করা হবে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক ৯ ল ফার্ম নিয়োগ

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সব আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

খেলাপি ঋণ আদায় এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক গোপনীয়তা চুক্তি (NDA) স্বাক্ষরের পর ‘নো উইন, নো ফি’ (সম্পদ উদ্ধার হলেই কেবল ফি প্রদান) ভিত্তিতে ৯টি আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান (International Law Firms) নিয়োগের কাজ শুরু করেছে, যারা বিশ্বজুড়ে পাচার হওয়া সম্পদ ও খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে সরাসরি কাজ করবে।

এক নজরে অর্থমন্ত্রীর বাজেট ও ব্যাংক সংস্কার বক্তৃতা (৮ জুলাই, ২০২৬)

  • বড় আশ্বাস: ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীরা মূল টাকা ও সুদ সম্পূর্ণ ফেরত পাবেন, কোনো ‘হেয়ারকাট’ হবে না।

  • মেগা মার্জার: দুর্বল ৫টি ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত হলো নতুন ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’।

  • সুরক্ষা বৃদ্ধি: আমানত বীমার সুরক্ষার সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

  • সম্পদ ক্রোক: ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে তাদের সম্পদ নিলাম করে আমানতকারীদের টাকা শোধ করা হবে।

  • পাচার করা টাকা ফেরত: বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ও খেলাপি ঋণ উদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু।

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | জাতীয় সংসদ, ব্যাংক পুনর্গঠন ও আর্থিক খাত সংস্কার সেল

নতুন গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-এর লেনদেন ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম কবে থেকে শুরু হবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা তোলার দৈনিক বা সাপ্তাহিক লিমিট কত নির্ধারণ করা হলো এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার আইনি অগ্রগতির প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
তাজা স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর একবার এক তরুণের বাঁধভাঙা উল্লাস ও আনন্দ-চিৎকার আমাকে ভিন্ন এক ভাবনায় আক্রান্ত করেছিল। তরুণের সেই উল্লাস আমাকে নতুন এক সমাজ-জিজ্ঞাসার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। এটা কি জ্ঞান-পিপাসু হিসেবে উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও উম্মাহকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাওয়ার আনন্দ নাকি উন্নত জীবনের মোহনীয় হাতছানি এবং আজীবন সেখানে স্থায়ী হওয়ার দুয়ার খুলে যাওয়ার আনন্দ?  Advertisement  এদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত বিশ্বে পা রাখে এবং সেখানে ক্যারিয়ার গড়ে। উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি ভিসা দেয় স্টুডেন্ট ক্যাটাগরিতে। পর্যটন ভিসার তুলনায় স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। কোনো কোনো দেশের স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি!  শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা স্টুডেন্ট ভিসাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে বটে; তবে এর পেছনে একটি গভীর সমীকরণ রয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবার কারণে অনেক উন্নত দেশের জনসংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। কমতে থাকা জন্মের হার রীতিমতো জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রণোদনা দিয়েও তারা জন্মহার বাড়াতে পারছে না।  তাদের প্রয়োজন আমাদের মতো গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের। যারা ছাত্র ভিসায় বিদেশে গিয়ে সেখানকার দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে উঠবে। এজন্য তারা গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের ওয়েলকাম জানাতে মুখিয়ে থাকে। অফার করে নানা রকম সুযোগ-সুবিধার। অনেক দেশে পড়াশোনার পর পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্টের পথ খুলে দেওয়া হয়।  জ্ঞান-গবেষণার জন্য দূর দেশে পাড়ি জমানো খারাপ কোনো বিষয় নয়। কিন্তু দেশের আলো-হাওয়ায় বড় হয়ে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়াশোনার ভিত গড়ার পর নিছক একটু ভালো থাকার জন্য উন্নত ও অমুসলিম প্রধান দেশকে সার্ভ করা নিশ্চয়ই একজন মুসলিম তরুণের কাম্য বিষয় হতে পারে না। বাবা-মা যতদিন বেঁচে থাকেন, ততদিন দেশের সাথে এই শ্রেণির মানুষের নিভু নিভু সম্পর্কটা হারিকেনের সলতের মতো টিকে থাকে। বাবা-মার মৃত্যুর পর অনেকে দেশের সমুদয় সম্পদ বিক্রি করে সেই টাকা বৈদেশিক সুখে বিনিয়োগ করে। দেশে তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও আর অবশিষ্ট থাকে না।  শিক্ষার্থীদের মাঝে কেন দেশত্যাগের মিছিল চলছে? এর জন্য কি শুধুই তরুণদের ভোগবাদী মানসিকতা দায়ী? শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় তুলবার আগে সবার প্রথমে নিজেদের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও আমরা দুর্নীতিমুক্ত, অপরাধহীন, স্থিতিশীল, বাসযোগ্য ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাওয়ার মতো একটি দেশ গড়ে তুলতে পারিনি। যে দেশ নিয়ে একজন মেধাবী তরুণ স্বপ্নের বীজ বুনবে।  এখানে মেধার মূল্য নেই, ঘুস ও রেফারেন্স ছাড়া চাকরি হয় না, জীবন সর্বক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক অবক্ষয় ও অস্থিরতার ছড়াছড়ি, দুর্নীতিতে সয়লাব প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং তরুণদের নিয়ে সর্বদা আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারকে।  এতসব অনিশ্চয়তার মাঝে মেধাবী শিক্ষার্থীকে যেখানে ওয়েলকাম করতে উন্নত দেশগুলো অ্যাম্বাসি খুলে বসে আছে, তার জন্য দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখা কঠিন ব্যাপারই। এরপরও তারুণ্যকে আমি এই কঠিনেরে ভালোবাসার আহ্বান জানাই। কেউ দেশটাকে প্রস্তুত করে দেয়নি বলে আমি কি পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করব না? নিরুপদ্রব জীবনের জন্য সবাই যদি বিদেশকেই ঠিকানা বানায়, তবে চেইঞ্জ মেকার হবে কে?  প্রকৃতপক্ষে আমাদের তরুণদের সামনে কোনো ভিশন বা আদর্শ নেই, যার জন্য সে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে। অধিকাংশ পরিবার, এমনকি খোদ রাষ্ট্রও তরুণদের আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট নয়; বরং ধর্মবিযুক্তির মাধ্যমে তাদের নিছক ভোগবাদী এবং স্বার্থপর করে গড়ে তোলা হচ্ছে।  তাই, মেধাবী তরুণদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার মিছিল থামানোর জন্য মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেই সাথে প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেন আগামী প্রজন্ম আদর্শবাদী এবং শেকড়মুখী মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।  সর্বোপরি তরুণদের ভোগবাদী জীবনের পরিবর্তে চ্যালেঞ্জের জীবন বেছে নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, ভোগে নয়, ত্যাগের মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখের ঠিকানা। একটি দেশ উন্নত হয় মূলত তরুণদের মেধার ওপর ভর করে। সেই মেধা যদি বাইরে চলে যায় এবং বাইরের উন্নয়নে তা ব্যয় হয়, তবে সেই দেশ কোনোভাবেই সাফল্যের স্বর্ণচূড়ায় উঠতে পারে না। তাই মেধা পাচার রোধে আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।  সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক (মেটা) থেকে নেওয়া।

স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর একবার এক তরুণের বাঁধভাঙা উল্লাস ও আনন্দ-চিৎকার আমাকে ভিন্ন এক ভাবনায় আক্রান্ত করেছিল। তরুণের সেই উল্লাস আমাকে নতুন এক সমাজ-জিজ্ঞাসার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। এটা কি জ্ঞান-পিপাসু হিসেবে উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও উম্মাহকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাওয়ার আনন্দ নাকি উন্নত জীবনের মোহনীয় হাতছানি এবং আজীবন সেখানে স্থায়ী হওয়ার দুয়ার খুলে যাওয়ার আনন্দ? Advertisement এদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত বিশ্বে পা রাখে এবং সেখানে ক্যারিয়ার গড়ে। উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি ভিসা দেয় স্টুডেন্ট ক্যাটাগরিতে। পর্যটন ভিসার তুলনায় স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। কোনো কোনো দেশের স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি! শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা স্টুডেন্ট ভিসাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে বটে; তবে এর পেছনে একটি গভীর সমীকরণ রয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবার কারণে অনেক উন্নত দেশের জনসংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। কমতে থাকা জন্মের হার রীতিমতো জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রণোদনা দিয়েও তারা জন্মহার বাড়াতে পারছে না। তাদের প্রয়োজন আমাদের মতো গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের। যারা ছাত্র ভিসায় বিদেশে গিয়ে সেখানকার দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে উঠবে। এজন্য তারা গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের ওয়েলকাম জানাতে মুখিয়ে থাকে। অফার করে নানা রকম সুযোগ-সুবিধার। অনেক দেশে পড়াশোনার পর পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্টের পথ খুলে দেওয়া হয়। জ্ঞান-গবেষণার জন্য দূর দেশে পাড়ি জমানো খারাপ কোনো বিষয় নয়। কিন্তু দেশের আলো-হাওয়ায় বড় হয়ে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়াশোনার ভিত গড়ার পর নিছক একটু ভালো থাকার জন্য উন্নত ও অমুসলিম প্রধান দেশকে সার্ভ করা নিশ্চয়ই একজন মুসলিম তরুণের কাম্য বিষয় হতে পারে না। বাবা-মা যতদিন বেঁচে থাকেন, ততদিন দেশের সাথে এই শ্রেণির মানুষের নিভু নিভু সম্পর্কটা হারিকেনের সলতের মতো টিকে থাকে। বাবা-মার মৃত্যুর পর অনেকে দেশের সমুদয় সম্পদ বিক্রি করে সেই টাকা বৈদেশিক সুখে বিনিয়োগ করে। দেশে তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও আর অবশিষ্ট থাকে না। শিক্ষার্থীদের মাঝে কেন দেশত্যাগের মিছিল চলছে? এর জন্য কি শুধুই তরুণদের ভোগবাদী মানসিকতা দায়ী? শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় তুলবার আগে সবার প্রথমে নিজেদের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও আমরা দুর্নীতিমুক্ত, অপরাধহীন, স্থিতিশীল, বাসযোগ্য ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাওয়ার মতো একটি দেশ গড়ে তুলতে পারিনি। যে দেশ নিয়ে একজন মেধাবী তরুণ স্বপ্নের বীজ বুনবে। এখানে মেধার মূল্য নেই, ঘুস ও রেফারেন্স ছাড়া চাকরি হয় না, জীবন সর্বক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক অবক্ষয় ও অস্থিরতার ছড়াছড়ি, দুর্নীতিতে সয়লাব প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং তরুণদের নিয়ে সর্বদা আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারকে। এতসব অনিশ্চয়তার মাঝে মেধাবী শিক্ষার্থীকে যেখানে ওয়েলকাম করতে উন্নত দেশগুলো অ্যাম্বাসি খুলে বসে আছে, তার জন্য দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখা কঠিন ব্যাপারই। এরপরও তারুণ্যকে আমি এই কঠিনেরে ভালোবাসার আহ্বান জানাই। কেউ দেশটাকে প্রস্তুত করে দেয়নি বলে আমি কি পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করব না? নিরুপদ্রব জীবনের জন্য সবাই যদি বিদেশকেই ঠিকানা বানায়, তবে চেইঞ্জ মেকার হবে কে? প্রকৃতপক্ষে আমাদের তরুণদের সামনে কোনো ভিশন বা আদর্শ নেই, যার জন্য সে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে। অধিকাংশ পরিবার, এমনকি খোদ রাষ্ট্রও তরুণদের আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট নয়; বরং ধর্মবিযুক্তির মাধ্যমে তাদের নিছক ভোগবাদী এবং স্বার্থপর করে গড়ে তোলা হচ্ছে। তাই, মেধাবী তরুণদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার মিছিল থামানোর জন্য মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেই সাথে প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেন আগামী প্রজন্ম আদর্শবাদী এবং শেকড়মুখী মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। সর্বোপরি তরুণদের ভোগবাদী জীবনের পরিবর্তে চ্যালেঞ্জের জীবন বেছে নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, ভোগে নয়, ত্যাগের মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখের ঠিকানা। একটি দেশ উন্নত হয় মূলত তরুণদের মেধার ওপর ভর করে। সেই মেধা যদি বাইরে চলে যায় এবং বাইরের উন্নয়নে তা ব্যয় হয়, তবে সেই দেশ কোনোভাবেই সাফল্যের স্বর্ণচূড়ায় উঠতে পারে না। তাই মেধা পাচার রোধে আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক (মেটা) থেকে নেওয়া।

ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency