| বঙ্গাব্দ

পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম কি ইসরাইলের পাহারাদার? অধ্যাপক বিসেল-হেইডের বিশেষ বিশ্লেষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-04-2026 ইং
  • 5722419 বার পঠিত
পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম কি ইসরাইলের পাহারাদার? অধ্যাপক বিসেল-হেইডের বিশেষ বিশ্লেষণ
ছবির ক্যাপশন: পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম কি ইসরাইলের পাহারাদার

পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম কি ইসরাইলের পাহারাদার? প্রোপাগান্ডা ও তথ্যের গোপন লড়াই

অনুবাদ ও বিশ্লেষণ: [BDS Bulbul Ahmed]

বিভাগ: আন্তর্জাতিক / বিশেষ নিবন্ধ

মূল লেখক: অধ্যাপক, মাঙ্ক স্কুল অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি, টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্বজুড়ে এখন যুদ্ধের ডামাডোল। বিশেষ করে ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য যখন আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে, তখন পশ্চিমা মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তাঁর মতে, ইসরাইলের সমালোচনা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা কেবল ভুল নয়, বরং এটি এক ভয়াবহ ‘প্রোপাগান্ডা’।

১. ট্রাম্পকে যুদ্ধে নামাতে নেতানিয়াহুর ‘মাস্টারক্লাস’

সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক জানান, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কীভাবে ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন। হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুম’-এ সাধারণত বিদেশি নেতাদের প্রবেশাধিকার থাকে না। কিন্তু সেখানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কেবল উপস্থিতই ছিলেন না, বরং মোসাদ প্রধান ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের প্রেজেন্টেশন দিয়েছিলেন। এই ‘হার্ড সেল’ বা কঠোর চাপই ছিল ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত চাবিকাঠি।

২. গণমাধ্যমের স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ (Self-Censorship)

লেখক দাবি করেন, পশ্চিমা গণমাধ্যম ট্রাম্পের ওপর রাশিয়ার প্রভাব নিয়ে সরব হলেও ইসরাইলের প্রভাব নিয়ে অদ্ভুত নীরবতা পালন করে। উদাহরণ হিসেবে তিনি নামকরা সাংবাদিক র‍্যাচেল ম্যাডো-র কথা উল্লেখ করেন। ম্যাডো যখন ইরান যুদ্ধের কারণ খুঁজছিলেন, তখন তিনি কৌশলে ইসরাইলের নাম এড়িয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর দোষ চাপিয়েছেন। লেখক বলেন, “সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যাওয়া বা গোপন করা রাষ্ট্রীয় প্রোপাগান্ডারই একটি রূপ।”

৩. ‘ইহুদি-বিদ্বেষ’ কার্ড: একটি বিপজ্জনক ধারণা

ইসরাইলের সমালোচনা করলেই তাকে ‘ইহুদি-বিদ্বেষ’ (Antisemitism) হিসেবে তকমা দেওয়ার প্রবণতাকে লেখক বিপজ্জনক মনে করেন।

  • পার্থক্য: ইসরাইল একটি রাষ্ট্র, আর ইহুদিরা একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী। রাষ্ট্রের অপরাধের সমালোচনাকে ধর্মের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখালে তা প্রকারান্তরে ইহুদি-বিদ্বেষী ধারণাকেই শক্তিশালী করে।

  • ফলাফল: ইসরাইল সরকার যখন ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালায় বা লেবাননে উচ্ছেদ চালায়, তখন সংবাদমাধ্যমের নীরবতা মূলত অপরাধীদের আড়াল করার কাজ করে।

৪. অর্ধসত্য কি মিথ্যার চেয়েও ভয়ংকর?

নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রোপাগান্ডা মানে কেবল মিথ্যা বলা নয়। বাস্তবতার একটি আংশিক চিত্র তুলে ধরা প্রোপাগান্ডার সবচেয়ে মারাত্মক রূপ। লেখক কঠোর ভাষায় বলেছেন, “যে সংবাদমাধ্যম কেবল আংশিক সত্য বলে, সে সম্ভবত আরও বেশি পরাধীন; কারণ এ অর্ধসত্যগুলো তার পরাধীনতাকে আড়াল করার মুখোশ হিসেবে কাজ করে।”


বিডিএস ডিজিটাল ফ্যাক্ট-চেক (Editorial Insight)

এই নিবন্ধটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, তথাকথিত 'মুক্ত গণমাধ্যম' অনেক সময় বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাবে অন্ধ হয়ে থাকে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা যখন তথ্যের অবাধ প্রবাহের কথা বলি, তখন এই ধরনের সেন্সরশিপ গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকি। ইসরাইল ও ট্রাম্পের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ আজ আর লুকানো কোনো বিষয় নয়, তবুও কেন মূলধারার মিডিয়া এটি এড়িয়ে যায়—তা নিয়ে ভাববার সময় এসেছে।


লেখকের মূল কথা: মার্কিন নীতিতে রাশিয়া বা উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রভাব থাকতে পারে। কিন্তু ইসরাইলের প্রভাব অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে অনেক বেশি। আগেরগুলোর কথা বলে পরেরটি এড়িয়ে যাওয়া স্রেফ প্রোপাগান্ডা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
খবর রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency