প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ ১৮ মাসের এক ঐতিহাসিক ও সংস্কারমুখী পথচলা শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে বিদায় নিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন বিদায়ী ভাষণে তিনি গত দেড় বছরের অর্জন, সংকট এবং আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেন। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে তার এই বিশেষ অধ্যায়।
ভাষণের শুরুতেই ড. ইউনূস ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন,
"কী মহা মুক্তির দিন ছিল সেদিনটি! বাংলাদেশিরা দেশে-বিদেশে যে যেখানে ছিল আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিল। দৈত্যের গ্রাস থেকে তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে বের করে এনেছে। দেশ মুক্ত হয়েছে, কিন্তু দেশ তখন সম্পূর্ণ অচল।"
তিনি জানান, অচল দেশকে সচল করতে ছাত্রনেতারা যখন তাকে দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেন, তিনি তখন দেশের বাইরে ছিলেন এবং প্রথমে রাজি ছিলেন না। কিন্তু জাতির প্রতি কর্তব্যের টানে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিদায়ী ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, সরকারের প্রথম ও প্রধান কাজ ছিল স্থবির হয়ে পড়া প্রশাসনিক যন্ত্রকে সচল করা। যারা দেশকে ‘লুটেপুটে খেত’, তারাই সেই যন্ত্র চালাত। অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনের বড় বড় কর্তারা পালিয়ে যান অথবা আত্মগোপনে চলে যান। তিনি বলেন,
"কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না—এটি ছিল মহাসংকট। গত ১৮ মাসে আমরা প্রতিটি পদে যোগ্য ও দেশপ্রেমিকদের বসিয়ে শাসনব্যবস্থায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।"
ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, দেড় যুগ পর দেশে একটি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল অভূতপূর্ব। একই সাথে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবগুলোতে জনগণের সিলমোহর পড়েছে।
বাঙালির রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি মোড়ে বাঙালি আত্মপরিচয়ের জন্য লড়েছে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব: স্বৈরাচারের অবসানের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ সালে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।
বর্তমান প্রেক্ষাপট (২০২৬): দীর্ঘ দেড় বছর পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ যাত্রায় ২০২৬ সালের এই নির্বাচন একটি নতুন গণতান্ত্রিক যুগের সূচনা করল।
ড. ইউনূস তার ভাষণে বলেন,
"১৮ মাস পর এখন আমার যাওয়ার পালা। আমরা আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি রাখিনি। আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দুর্নীতির বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখেছি।"
তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারসমূহ এই সংস্কারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে।
সূত্র: * বিএসএস (বাসস), দৈনিক যুগান্তর অনলাইন, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (বিডিএস)
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |