| বঙ্গাব্দ

: ঢাকা-৮ আসনে নতুন সমীকরণ? মির্জা আব্বাসের বাসায় মেঘনা আলমের চা-চক্র | নির্বাচন ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-02-2026 ইং
  • 2658706 বার পঠিত
: ঢাকা-৮ আসনে নতুন সমীকরণ? মির্জা আব্বাসের বাসায় মেঘনা আলমের চা-চক্র | নির্বাচন ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: ঢাকা-৮ আসনে নতুন সমীকরণ

ঢাকা-৮ আসনে ভোটের মাঠে চায়ের দাওয়াত: মির্জা আব্বাসের বাসায় মেঘনা আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল-শাহজাহানপুর) আসনে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সৌজন্যের চিত্র দেখা গেছে। নির্বাচনী মাঠের কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসভবনে গিয়ে চায়ের দাওয়াতে অংশ নিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ও আলোচিত মডেল মেঘনা আলম। ভোটের চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে দুই প্রার্থীর এই ‘চা-চক্র’ রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মেঘনা আলম বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের আমন্ত্রণে তার বাসভবনে যান।

১৯০০ থেকে ২০২৬: ঢাকা-৮ আসনের রাজনৈতিক পরিক্রমা

ঢাকা-৮ আসনটি সব সময়ই দেশের রাজনীতির ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে পরিচিত। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে যখন ঢাকা আধুনিকায়নের পথে হাঁটছিল, তখন থেকেই মতিঝিল ও শাহজাহানপুর এলাকাগুলো অভিজাত ও রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পায়। ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের জন্মের পর ঢাকার এই অঞ্চলগুলো রাজনৈতিক আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এই আসনের অলিগলি ইতিহাসের সাক্ষী।

১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মির্জা আব্বাস এই এলাকার রাজনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেন। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে গণঅধিকার পরিষদের মতো নতুন শক্তির উত্থান রাজনীতির ব্যাকরণ বদলে দিয়েছে। ২০২৬ সালের এই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অভিজ্ঞ মির্জা আব্বাস বনাম তরুণ মেঘনা আলমের লড়াইটি তাই কেবল ভোটের নয়, বরং প্রজন্ম ও আদর্শের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণ।

সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি কৌশলগত চাল?

মির্জা আব্বাসের বাসভবনে যাওয়ার পর মেঘনা আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও এবং বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে বেশ হাসিখুশি মেজাজে আলাপচারিতা করতে দেখা গেছে। মেঘনা আলমের নির্বাচনি প্রচারণার সমন্বয়ক তাহরিন জেরিন জানান, এটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯০০ সাল থেকে আজ ২০২৬ পর্যন্ত এই ভূখণ্ডের নির্বাচনে ‘সৌজন্য’ অনেক সময় বড় কোনো কৌশলগত সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যকার এই হৃদ্যতা ভোটের মেরুকরণে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে।

জনগণের রায় ও প্রার্থীর অবস্থান

মির্জা আব্বাস এর আগে এক সভায় বলেছিলেন, তিনি কারো চরিত্রহনন করে রাজনীতি করতে চান না এবং নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে চান। অন্যদিকে মেঘনা আলম নিজেকে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে এই আসনে যোগ্য প্রার্থী দাবি করে আসছেন। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে ঢাকা-৮ আসনের ভোটাররা সবসময়ই সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে। ২০২৬ সালের এই ১২ ফেব্রুয়ারি তারা অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রাখবে নাকি নতুনত্বের জয়গান গাইবে, তা সময়ই বলে দেবে।


সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক, যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ, মেঘনা আলমের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেসক ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সেল।

বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী পরিবেশের একটি বিরল দিক তুলে ধরেছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে গত ১২৬ বছরে ঢাকার রাজনীতিতে সংঘাতের ইতিহাস থাকলেও, ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে সৌজন্যবোধের এই চর্চা ইতিবাচক। তবে ভোটের লড়াইয়ে এই সৌজন্যতা শেষ পর্যন্ত ‘ভোট শেয়ারিং’ বা কোনো বিশেষ আঁতাতের দিকে মোড় নেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency