| বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার শোকসভা: আমির খসরু ও কূটনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 31-01-2026 ইং
  • 2770927 বার পঠিত
চট্টগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার শোকসভা: আমির খসরু ও কূটনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
ছবির ক্যাপশন: আমির খসরু

চট্টগ্রামে শোকাতুর নাগরিক সভা: আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ ও আগামীর রাজনীতির দিকনির্দেশনা

বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ত্যাগ ও সংগ্রামের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় তিনি যেমন শাসন ক্ষমতায় থেকেছেন, তার চেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন রাজপথে ও কারান্তরালে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি, ২০২৬) চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় উঠে এসেছে দেশনেত্রীর সেই অকুতোভয় সংগ্রামের চিত্র।

১৯০০ থেকে ২০২৬: বাঙালি নারীর রাজনৈতিক উত্তরণ

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ সাল) এই ভূখণ্ডের নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সীমিত থাকলেও ১৯৭০-এর পরবর্তী সময়ে দৃশ্যপট বদলে যায়। একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠা বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ছিল বিস্ময়কর। শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "বেগম জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি জীবনের প্রায় ৩০ বছর রাজপথে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন।"

স্মৃতিচারণ ও কূটনীতিকদের উপস্থিতি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই শোকসভাটি ছিল দল-মতের ঊর্ধ্বে এক মহামিলন মেলা। অনুষ্ঠানে দেশীয় রাজনীতিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপস্থিতিও ছিল লক্ষ্যণীয়।

  • ভারতের সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজিব রঞ্জন এবং তুরস্কের কনসাল জেনারেল সালাউদ্দীন কাশেম খান উপস্থিত থেকে মরহুমার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এটি ২০২৬ সালের বদলে যাওয়া কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • বিশিষ্ট সাংবাদিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত এম এ মালেক এবং শিক্ষাবিদ ড. সুকোমল বড়ুয়া বেগম জিয়ার উদার ও ধর্মীয় সহনশীলতার দিকগুলো তুলে ধরেন।

বক্তাদের বিশ্লেষণ: উন্নয়ন বনাম দীর্ঘ সংগ্রাম

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র ১০-১১ বছর, কিন্তু গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই করেছেন দীর্ঘ তিন দশক। এই সংগ্রাম তাকে দেশের মানুষের হৃদয়ে 'দেশনেত্রী' হিসেবে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে।

সভায় বক্তারা ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে বেগম জিয়ার আদর্শকে পাথেয় করে রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর জোর দেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ এবং কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন স্বাস্থ্য খাতে বেগম জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

ভূ-রাজনৈতিক বার্তা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে, যখন বাংলাদেশ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায়, তখন বেগম জিয়ার মতো একজন আপসহীন নেত্রীর অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে বলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মন্তব্য করেন। শোকসভায় উপস্থিত ড. রাজিব রঞ্জনের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তির প্রতি প্রতিবেশী দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসছে।

উপসংহার

বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই শোকসভাটি যেন দেশব্যাপী গণতন্ত্রকামী মানুষের এক নতুন শপথের মঞ্চে পরিণত হয়েছিল। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই ছিল সভার মূল সুর।


সূত্র: এনটিভি অনলাইন, বিডিনিউজ ২৪, চট্টগ্রাম ব্যুরো নিউজ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ (জানুয়ারি ২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency