প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন মেরুকরণের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য এবং জোট গঠনের লড়াই তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসা ‘ওয়ানবক্স’ নীতির ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজি আতাউর রহমান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, "আমরা ইসলামি দলগুলো একবক্স নীতিতে আছি এবং থাকব। জামায়াত থাকবে কিনা সেটা তাদের ব্যাপার।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের পরিবেশ থাকা জরুরি। কাউকে ডমিনেট করা বা চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলন অতীতেও মানেনি এবং ভবিষ্যতেও মানবে না। গাজি আতাউর রহমানের এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি এবং জোটের নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল আসতে পারে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপকে ‘বায়াসড’ বা পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মাওলানা আতাউর রহমান। তিনি একটি জরিপের উদাহরণ দিয়ে বলেন, যেখানে বিএনপিকে ৩৪%, জামায়াত ও এনসিপি জোটকে ৪০% এবং ইসলামী আন্দোলনকে মাত্র ৩% দেখানো হয়েছে, তা আসলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস। তিনি বলেন, "মানুষ বোকা না, তারা বোঝে এই ৩% এর মাধ্যমে আমাদের গুরুত্বহীন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইনজাস্টিস বা অবিচার আমরা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেব না।"
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর প্রভাবের শিকড় অনেক গভীরে। ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব এবং পরবর্তীকালে ১৯৪৭-এর দেশভাগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধর্মীয় ও আঞ্চলিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১৯৫২-১৯৭১: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তা পুনরায় বৈধতা পায়।
১৯৯০-২০২৪: নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সকল দলের অংশগ্রহণ থাকলেও ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর থেকে জামায়াত ও ইসলামী দলগুলো ক্ষমতার কি-মেকার হিসেবে আবির্ভূত হয়। ২০০১ সালের চারদলীয় জোটে জামায়াতের অবস্থান ছিল শক্তিশালী। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে যায়।
২০২৫-২০২৬: ২০২৫ সাল জুড়ে চলা রাষ্ট্র সংস্কারের পর ২০২৬ সালের নির্বাচন এখন দোরগোড়ায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি), জামায়াত এবং বিএনপির ত্রিমুখী লড়াইয়ের মাঝে ইসলামী দলগুলোর ‘ওয়ানবক্স’ নীতি একটি শক্তিশালী তৃতীয় শক্তির জানান দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে ক্ষমতার লড়াই ২০২৬ সালে এসে পৌঁছেছে, সেখানে এখন আদর্শের চেয়ে কৌশল বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এনসিপি এবং জামায়াতের সাম্প্রতিক ঐক্য যেখানে এক পক্ষকে শক্তিশালী করছে, সেখানে ইসলামী আন্দোলনের ‘আত্মসম্মানবোধ’ এবং একক শক্তিতে লড়ার ইঙ্গিত নতুন কোনো জোটের আভাস দিচ্ছে। গাজি আতাউর রহমানের ভাষায়, "কার কী অবস্থান তা সবাই জানে।" এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা বা বিচ্ছেদের খেলা চলছে।
সূত্র: ১. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং নোট (১৪ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বিবর্তন আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)। ৩. গুগল নিউজ এনালিটিকস এবং সমসাময়িক নির্বাচনী জরিপ প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |