বড়দিনে সম্প্রীতির বার্তা প্রধান উপদেষ্টার: গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে পালিত হচ্ছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন। এ উপলক্ষে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে 'জুলাই সনদ' এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, বিশপ ফিলিপ পি অধিকারীসহ দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ তার বক্তব্যে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ গড়ায় ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে আড়াই কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার জন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
উপস্থিত ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে বড়দিন ও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "আপনারা সমাজের প্রতিবিম্ব। আমরা একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে চাই।" তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে একটি 'গণভোট' অনুষ্ঠিত হবে।
ড. ইউনূস বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে 'জুলাই সনদ' প্রস্তুত করা হয়েছে। গণভোটে জনগণ যে রায় দেবে, পরবর্তী সংসদ সেই অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করবে।" তিনি জনগণকে এই প্রক্রিয়ায় সচেতন করতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল অনন্য। ১৯৫০-এর দশকে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০-এর দশকে যখন বাঙালি জাতীয়তাবাদ দানা বাঁধছিল, তখন অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছিল এর মূল ভিত্তি। ১৯৭২ সালের সংবিধানে এই ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমানাধিকারের প্রতিফলন ঘটেছিল।
বিগত দশকের চ্যালেঞ্জ: ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের কারণে ধর্মীয় সম্প্রীতি মাঝে মাঝে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব সব ধর্মের তরুণদের রাজপথে এক করে দেয়।
২০২৫-এর নতুন দিগন্ত: ১৯৫০ সালে যে গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সেই স্বপ্নের এক নতুন সংস্করণ 'জুলাই সনদ' ও গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। আধুনিক বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচন ও গণভোটের এই সমন্বিত আয়োজন এক অভাবনীয় ঘটনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালের এই বড়দিনের অনুষ্ঠান শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেটই হবে শেষ কথা, যেখানে কোনো ফ্যাসিবাদী বা উগ্রবাদী শক্তির স্থান হবে না।
সূত্র: ১. প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ও প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ব্রিফিং। ২. খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও আর্চবিশপ হাউসের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। ৩. বাংলাদেশ গেজেট ও রাজনৈতিক ইতিহাস আর্কাইভ (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |