প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
স্থান: ঢাকা | তারিখ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
“জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম।”
তবে রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সনদ সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনবে কি না, সেই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রায় আট মাস ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক শেষে গত শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) “জুলাই জাতীয় সনদ” চূড়ান্ত করে।
সেই দিনই সংসদ ভবনের এলডি হলে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকার ও অংশগ্রহণকারী দলগুলো সনদে স্বাক্ষর করে।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন,
“বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি থাকলে জুলাই সনদ আরও পূর্ণতা পেতো।
তবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংশোধনের আশ্বাস পেয়ে আমরা সনদে স্বাক্ষর করেছি।”
ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেন,
“জুলাই সনদ কোনো একক উদ্যোগ নয়; এটি জাতীয় ঐকমত্যের প্রতিফলন।
তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো এখনো আলোচনায় আসেনি।”
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় অধ্যাপক এ. কে. আজাদ খানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন যে রিপোর্ট জমা দেয় (৫ মে ২০২৫), তাতে
জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা,
বেসরকারি ক্লিনিকের লাইসেন্স ও তদারকি সংস্কার,
ওয়ার্ডভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র,
স্কুলে হেলথ এডুকেশন ইত্যাদি সুপারিশ ছিল।
কিন্তু এই সুপারিশগুলোর কোনোটি জুলাই সনদে স্থান পায়নি।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো অন্তর্ভুক্ত না করা হতাশাজনক।
সাধারণ মানুষ যে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন চায়, তা এই সনদে অনুপস্থিত।”
ঢাকার এক বেসরকারি কর্মজীবী মিজানুর রহমান বলেন,
“আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য চিকিৎসা পাওয়া এখনো বিলাসিতা।
কমিশন গঠন হয়েছিল, কিন্তু ফল কিছুই দেখিনি। জুলাই সনদেও কিছু পেলাম না।”
অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র কমিটি প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠার বিশ্লেষণী রিপোর্ট জমা দেয়,
যেখানে অর্থপাচার, ব্যাংক দুর্নীতি ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি রোধে কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
জুলাই সনদে এই খাতের বিষয়ে কেবল “দুর্নীতি রোধে কৌশলপত্র প্রণয়ন”–এর প্রতিশ্রুতি রয়েছে, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট নীতি বা পদক্ষেপ উল্লেখ নেই।
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“সনদে অপ্রত্যক্ষভাবে অর্থনৈতিক শুদ্ধতা নিয়ে আলোচনা আছে, কিন্তু সংস্কারের রূপরেখা নেই।
এটি সনদের একটি দুর্বলতা।”
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকেই যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা,
সে আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বৈষম্য দূর করা।
কিন্তু জুলাই সনদে শিক্ষা সংস্কার নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সুপারিশ নেই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রাপ্তি তাপসী বলেন,
“জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা ছিল সামনের সারিতে,
কিন্তু সনদে শিক্ষা সংস্কারের প্রতিফলন নেই—এটি হতাশাজনক।”
ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেন,
“শিক্ষা নিয়ে কোনো সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়নি।
তাই এই খাতের প্রস্তাব যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তবে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকার চাইলে কমিশনের নতুন প্রস্তাব যুক্ত করতে পারবে।”
নারী ও শ্রম খাত সংস্কার কমিশন উভয়ই তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে,
কিন্তু তাদের কোনো সুপারিশই জুলাই সনদে স্থান পায়নি।
অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“শ্রম খাতের সংস্কার যুক্ত থাকলে অন্তত দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেত।”
শিক্ষার্থী প্রাপ্তি তাপসী বলেন,
“সংসদে নারীর আসনসংক্রান্ত দাবি, পাহাড়ি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার—সবই উপেক্ষিত।”
আইনজীবী জাহেদ ইকবাল মন্তব্য করেন,
“সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে সনদে বিস্তারিত আছে,
কিন্তু প্রান্তিক মানুষ, নারী ও শ্রমজীবীদের স্বপ্ন সেখানে অনুপস্থিত।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন,
“জুলাই সনদ রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের একটি মাইলফলক,
কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রতিফলন এখনও অনিশ্চিত।”
অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা যুক্ত হলে
সনদটি জনআস্থার সনদে পরিণত হতে পারত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জুলাই সনদ (১৭ অক্টোবর ২০২৫)
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশন প্রতিবেদনসমূহ
অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদদের সাক্ষাৎকার
4.现场 সাংবাদিক রিপোর্ট, সংসদ ভবন এলডি হল
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |