| বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের হার্টে তিনটি ব্লক, চিকিৎসকদের বাইপাস সার্জারির পরামর্শ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-08-2025 ইং
  • 4915888 বার পঠিত
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের হার্টে তিনটি ব্লক, চিকিৎসকদের বাইপাস সার্জারির পরামর্শ
ছবির ক্যাপশন: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের হার্টে তিনটি রক্তনালির ব্লক: বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: জামায়াত ঢাকা মহানগর উত্তর, ব্যক্তিগত চিকিৎসক, যুগান্তর


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হৃদযন্ত্রে তিনটি প্রধান করোনারি ধমনিতে ব্লক ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকরা। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এনজিওগ্রাফি করার পর চিকিৎসক বোর্ড বাইপাস সার্জারির সুপারিশ করেছেন এবং তা আগামী সপ্তাহে করার প্রস্তুতি চলছে।

গত ৩০ জুলাই, বুধবার তার এই পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হয় এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

তিনি জানান, ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন জামায়াত আমির। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করলেও ফলোআপ চিকিৎসার অংশ হিসেবে সম্প্রতি এনজিওগ্রাফি করা হয়।

দেশের বাইরে নয়, দেশেই চিকিৎসা

জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত সচিব নজরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান:

“চিকিৎসকরা দেশের বাইরে গিয়ে সার্জারি করানোর প্রস্তাব দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। নিজ দেশেই চিকিৎসা করানোর কথা জানিয়ে দিয়েছেন।”

এই সিদ্ধান্ত অনেকের দৃষ্টিতে রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। এমন সময় যখন দেশের রাজনীতিতে বিদেশ নির্ভরতার ইস্যু বারবার উঠে আসছে, তখন একজন শীর্ষ ইসলামী রাজনীতিকের দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর আস্থা প্রকাশ বিরল দৃশ্য।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: জামায়াতের নেতৃত্ব ও সংকট

ডা. শফিকুর রহমান ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি দলের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চিকিৎসক পেশা থেকে উঠে আসা এই নেতা মূলধারার রাজনীতিতে দৃঢ়ভাবে ইসলামপন্থী ঘরানাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম বরাবরই বিতর্কের মধ্যে থেকেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দলের ভূমিকার কারণে দলটি রাজনৈতিকভাবে সংকটে পড়ে। ১৯৭৫ সালে জামায়াত নিষিদ্ধ হয় এবং ১৯৭৯ সালে সামরিক শাসনের আমলে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

২০১৩ সালে হাইকোর্টের রায়ে দলটির নিবন্ধন বাতিল হয় এবং তারা জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনি সুযোগ হারায়। এরপর থেকে দলটি 'সাংগঠনিক ও আদর্শিক আন্দোলন' চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করে।


১৯৫০–২০২৫: জামায়াতের স্বাস্থ্য নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের ইতিহাসে রাজনৈতিক নেতাদের অসুস্থতা বা চিকিৎসা প্রায়শই রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়ে থাকে। যেমন:

সালঘটনাপ্রেক্ষাপট
1969মওলানা ভাসানীর কিডনি জটিলতাতৎকালীন পূর্ব বাংলার বামপন্থী রাজনীতিতে ভাসানীর শারীরিক অবস্থা রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় ছিল
2007খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গুরুত্ব পায়
2023ডা. ইউনূসের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ইস্যু বিশ্বদৃষ্টি আকর্ষণ করে
2025ডা. শফিকুর রহমান দেশেই বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত নেন, যা রাজনৈতিকভাবে আত্মবিশ্বাস ও জাতীয় চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি আস্থার বার্তা দেয়
জামায়াতের ভবিষ্যৎ কৌশল ও নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রভাব

এই চিকিৎসাজনিত বিরতি জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থবিরতা আনলেও, দলটির মধ্যম ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা সংগঠন টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট বলে জানা গেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে—জামায়াতের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, যদি ডা. শফিকুর রহমান দীর্ঘমেয়াদি বিশ্রামে যেতে বাধ্য হন?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলের তরুণদের মধ্যে কিছু সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার চেষ্টা দেখা গেছে, বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কিন্তু নিবন্ধনবিহীন অবস্থায় মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা তাদের জন্য এখনও চ্যালেঞ্জস্বরূপ।

সূত্র

  1. যুগান্তর (৩১ জুলাই ২০২৫)

  2. জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার বিবৃতি

  3. রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইতিহাসভিত্তিক দলিল: “বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলসমূহ, ১৯৫০–২০২০”, ড. মাহবুব হাসান

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency