| বঙ্গাব্দ

বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি: দীর্ঘ ৩২ বছরের অপেক্ষা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-07-2025 ইং
  • 5043376 বার পঠিত
বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি: দীর্ঘ ৩২ বছরের অপেক্ষা
ছবির ক্যাপশন: এমপিওভুক্তি: দীর্ঘ ৩২ বছরের অপেক্ষা

বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঘোষণা

বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন: দীর্ঘ ৩২ বছরের অপেক্ষা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কোর্সের (অনার্স-মাস্টার্স) নিয়মিত শিক্ষকরা দীর্ঘ ৩২ বছর পর এমপিওভুক্ত হচ্ছেনবুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২১ শীর্ষক পর্যালোচনা সভায় এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়।

এতে বলা হয় যে, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের জন্য এক বড় ধরনের অর্জন এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক যারা দীর্ঘ সময় ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছিলেন না, তাদের অধিকার রক্ষা করা হবে।

এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট

বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি উঠছিল। এ সিদ্ধান্তে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং সভার সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ৪৯৫টি কলেজের প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হবেন, যাঁরা ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনো প্রকার বেতন-ভাতা পাচ্ছিলেন না। তাদের মধ্যে অনেকেই ৩২ বছর ধরে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি। তবে, জানা গেছে, এমপিওভুক্তির জন্য মাত্র ১১১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।

শিক্ষকদের দাবি এবং বাস্তবতা

বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের সহসভাপতি মো. জমির হোসেন জানিয়ে দেন, এই সিদ্ধান্তটি বঞ্চিত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। ১৯৯২ সাল থেকে তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে পড়ানোর পরেও সরকারি সুবিধা পায়নি, কিন্তু অবশেষে তাদের এমপিওভুক্তির পথ প্রশস্ত হলো

মাল্টিন্যাশনাল কল্যাণ এবং সরকারের ভূমিকা

যেহেতু দেশের শিক্ষাঙ্গনে বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, এই এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিকে এক বড় পদক্ষেপ। এতে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের প্রাপ্ত সুবিধা বৃদ্ধি হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া, অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ অনুমোদনের জন্য শিগগিরই প্রস্তাব পাঠানো হবে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা শিক্ষক সমাজের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি মুহূর্ত হতে পারে।

অভিযোগ এবং প্রতিক্রিয়া

এদিকে, অনেক শিক্ষক তাদের মুল্যবান সময় কাটিয়ে এমপিওভুক্তির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পর আনন্দিত হলেও, কিছু শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় কিছুটা হতাশ। তবে তাদের আশা, এই সিদ্ধান্তটি একইভাবে সব শিক্ষকদের জন্য সহজ এবং কার্যকরীভাবে বাস্তবায়িত হবে

উপসংহার

বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের জন্য এমপিওভুক্তির এই সিদ্ধান্ত এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপটি সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের অধিকার ও সম্মান প্রতিষ্ঠা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসাবে চিহ্নিত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি কলেজ শিক্ষক সমাজের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা এবং সমর্থন প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে আরো দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার সৃষ্টি করবে।

এমপিওভুক্তি দেশের বেসরকারি কলেজ গুলোর শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, শিক্ষকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করবে এবং বাংলাদেশের শিক্ষায় আরও মেধাবী নেতৃত্বের আগমন ঘটবে

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency