পারস্য উপসাগরে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রস্তুতি: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গোপন প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গত মাসে ইরানের সেনাবাহিনী পারস্য উপসাগরে তাদের যুদ্ধজাহাজে মাইন বোঝাই করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই প্রস্তুতির মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতার প্রস্তুতি চলছে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত জাহাজ চলাচলের পথগুলোর একটি, এবং এখানে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়ে থাকে। এই পথের ওপর কোনো বাধা সৃষ্টি হলে, তা পুরো পৃথিবীর জ্বালানির দামকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি ইরান ও ওমানের মাঝে অবস্থিত, যার প্রস্থ মাত্র ২১ মাইল (৩৪ কিলোমিটার), এবং সবচেয়ে সরু জায়গায় এর প্রস্থ ২ মাইল (৩ কিলোমিটার)। ওপেক সদস্য দেশগুলো – সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ইরাক এই প্রণালি দিয়ে তাদের অধিকাংশ তেল রপ্তানি করে থাকে। এছাড়াও, কাতার তার প্রায় সমস্ত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে রপ্তানি করে।
১৩ জুন, ইসরায়েল ইরানজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করার পর মার্কিন গোয়েন্দারা ইরানের এই প্রস্তুতি সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এই হামলার পরই ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন এবং জাতিসংঘে ইরানি মিশন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে ওয়াশিংটনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২২ জুন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর পরপরই, ইরানের পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালি বন্ধের পক্ষে একটি প্রস্তাব পাস করে, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে। অতীতে, বাহরাইনে মাইন-ক্লিয়ারেন্স জাহাজ রাখা হতো, তবে সম্প্রতি সেগুলো পরিবর্তন করে আরো উন্নত লিটারাল কমব্যাট শিপ (এলসিএস) মোতায়েন করা হয়েছে। ইরান হামলার আগে সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় এই জাহাজগুলো অস্থায়ীভাবে সরিয়ে নিয়েছিল।
ইরানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। তবে, মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতে ইরান আরো পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশ্বের দৃষ্টি এখন হরমুজ প্রণালি এবং তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ইরান যদি এই প্রণালি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী তেল এবং গ্যাসের বাজারে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষভাবে অত্যন্ত টানটান হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে আরও সামরিক উত্তেজনা এবং আক্রমণ হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |