| বঙ্গাব্দ

ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ ও পাকিস্তানের HQ-9 প্রতিরক্ষা প্রশ্ন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-05-2025 ইং
  • 5123647 বার পঠিত
ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ ও পাকিস্তানের HQ-9 প্রতিরক্ষা প্রশ্ন
ছবির ক্যাপশন: ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ ও পাকিস্তানের HQ-9 প্রতিরক্ষা প্রশ্ন

ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ ও পাকিস্তানের HQ-9 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নিয়ে বিতর্ক, কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার আগুন আবারও দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছে। বুধবার (৭ মে) মধ্যরাতে ভারত আকস্মিকভাবে চালায় ‘অপারেশন সিন্দুর’। নামেই যেমন নতুন, কার্যক্রমেও তেমনি বিস্ময়কর। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির সীমান্ত লক্ষ্য করে চালানো এই অভিযান ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ভারত দাবি করেছে, এটি ছিল একটি প্রতিশোধমূলক অভিযান। পাকিস্তান বলছে, এটি ছিল যুদ্ধ ঘোষণা করার মতো পদক্ষেপ।

ভারতের এই অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় আলোচনায় উঠে এসেছে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—চীনের তৈরি HQ-9 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়ার বিখ্যাত S-300 সিস্টেমের আদলে নির্মিত এই প্রযুক্তি পাকিস্তান সংগ্রহ করেছিল উচ্চমাত্রার আকাশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। কিন্তু বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সিস্টেম কতটা কার্যকর, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

HQ-9 কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

HQ-9 হচ্ছে একটি দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এটি শত্রুর যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং ছোট ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে সক্ষম। একেকটি সিস্টেমে থাকে ৬ বা তার বেশি ট্রাক এবং প্রতিটি ট্রাকে থাকে ৪টি করে মিসাইল কনটেইনার। প্রতিটি মিসাইলের ওজন প্রায় ২ টন এবং এগুলোর গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫,000 কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। সর্বোচ্চ ২০০ কিলোমিটার দূরত্ব এবং ৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই প্রযুক্তি।

এই সিস্টেমে যুক্ত রয়েছে একটি শক্তিশালী রাডার, যা ১২০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুর লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে এবং একসাথে প্রায় ১০০টি লক্ষ্য ট্র্যাক ও ৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম।

ভারত-পাকিস্তানের দাবি ও পাল্টা দাবি

অপারেশন সিন্দুর চলাকালে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তারা ভারতের তিনটি রাফাল, একটি সু-৩০এমকেআই, একটি মিগ-২৯ ফালক্রাম যুদ্ধবিমান এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাকিস্তান বলছে, এসব হামলা প্রতিহত করতে HQ-9 ব্যবস্থাই ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারত এসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় মিডিয়ায় বলা হচ্ছে, HQ-9 ব্যবস্থা পাকিস্তানকে কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। বরং এই সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতাকে উপহাস করছে ভারতীয়রা। বলা হচ্ছে, চীন তাদের “বন্ধু” দেশ পাকিস্তানকে কার্যত একটি ব্যর্থ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে।

বিতর্ক ও বিশ্লেষণ

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, HQ-9 এর কার্যকারিতা নির্ভর করে এর স্থাপনার ধরন, টার্গেট শনাক্তকরণ সক্ষমতা এবং অপারেটরের দক্ষতার ওপর। তারা বলছেন, ভারতের মতো একটি আধুনিক বিমানবাহিনীর বিরুদ্ধে HQ-9 পুরোপুরি কার্যকর প্রমাণিত হতে না-ও পারে। তবে এটি পুরোপুরি অকেজো এমনটাও নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রমাণ ছাড়া যে কোনো পক্ষের দাবি কেবল রাজনৈতিক বা মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency