ইসরায়েলি অভিযানে হামাসের সিনিয়র কমান্ডার নাইম আল মুসা নিহত
গাজা ভূখণ্ডে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) এক অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা। নিহত ওই কমান্ডারের নাম নাইম আল মুসা, যিনি দেইর আল-বালাহ অঞ্চলের স্নাইপার ইউনিটের উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রবিবার (১৩ এপ্রিল) গভীর রাতে গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলে হামাসের একটি সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে বিমান ও স্থল অভিযানের মাধ্যমে এ অভিযান চালানো হয়। ইসরায়েলের দাবি, ওই ঘাঁটি থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে সরাসরি আক্রমণের পরিকল্পনা এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
আইডিএফ আরও জানিয়েছে, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল হামাসের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং তাদের নেতৃত্বকে দুর্বল করা। নাইম আল মুসার মৃত্যুতে হামাসের স্নাইপার ইউনিটের নেতৃত্বে এক বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হবে বলেও দাবি করেছে ইসরায়েল।
উল্লেখ্য, গাজায় ইসরায়েলের স্থল অভিযান শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো হামাসের কোনো শীর্ষ সামরিক নেতাকে হত্যা করলো আইডিএফ। গাজার ভিতরে অবস্থান করে পরিচালিত সশস্ত্র হামলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিকল্পনায় জড়িত থাকায় মুসাকে টার্গেট করা হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
নাইম আল মুসা দীর্ঘদিন ধরে হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম ব্রিগেডে সক্রিয় ছিলেন। তিনি স্নাইপার অপারেশন, ঘাঁটি প্রতিরক্ষা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান গেরিলা কৌশলের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে দেইর আল-বালাহ অঞ্চলে হামাস বেশ কিছু সফল অপারেশন পরিচালনা করেছিল।
এদিকে নাইম আল মুসার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও হামাস এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে গাজার স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে হামাস নতুন করে সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের চলমান অভিযান এবং বিমান হামলায় এ পর্যন্ত কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী ও শিশুও রয়েছে। আইডিএফের দাবি, তাদের অভিযান শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহল থেকে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গাজায় ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং অসামরিক জনগণের প্রাণহানি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য আবারও আলোচনা শুরু করার অনুরোধ করেছে।
নাইম আল মুসার নিহত হওয়া হামাসের জন্য এক বড় ধাক্কা হলেও এর ফলে সংঘাতের মাত্রা কমবে, এমনটি ভাবা কঠিন। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। গাজার অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান আরও তীব্র হতে পারে, পাশাপাশি হামাসও এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নতুন করে সংগঠিত হতে পারে।
বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এই সংকট থেকে মধ্যপ্রাচ্যকে কীভাবে উত্তরণের পথ দেখানো যায়।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |